‘কিছু না জেনে, না বুঝে বলেছে জয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
95
D. Kamal3
গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন
D. Kamal3
গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের সর্বশেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

শুক্রবার রাজধানীর আরামবাগে গণফোরাম কার্যালয়ে দলটির বর্ধিত সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

জয় গতকাল বৃহস্পতিবার তার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বলেন, “ড. কামাল হোসেন, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও সুশীল সমাজের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নাকে (গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে পুলিশের রিমান্ডে) গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।”

তিনি বলেন, মান্না তার ফোনালাপে চক্রান্তের অংশ হিসাবে কামাল হোসেনের নামও উল্লেখ করেছেন। মান্না, কামাল হোসেন এবং ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামরা হচ্ছেন সেই ব্যাক্তি যারা ১/১১এর পর সামরিক শক্তিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্ষমতায় থাকতে আহবান জানিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এখন আমরা জানি যে তারা চায় এই সহিংসতা চলুক এবং তারা আসলে আরো মানুষ হত্যায় বিএনপি জামায়াতকে সহযোগিতা করতে চায়। ব্যাপার যা-ই হোক তারা আওয়ামী লীগ সরকারকে দোষ দেয় যাতে করে তারা ১/১১এর মতো আবারও সেনাবাহিনীর পিঠে চড়ে ক্ষমতায় আরোহন করতে পারে। এটা রাষ্ট্রদোহিতা। তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।

ড. কামাল বলেন, ২০১৫ সালে এসে আমাকে দেশদ্রোহিতার কথা শোনানো হলে, এটা আমার জন্য লজ্জার। দেশের জন্য লজ্জার, যিনি বলেন তার জন্যও লজ্জার।

তিনি বলেন, “একজন বলেছে দেশদ্রোহিতার জন্য আমার বিচার করা হোক। পাকিস্তানও আমার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার বিচার করেছিল, বিএনপিও করেছিল কেয়ারটেকার সরকারের দাবি করায়। এরশাদও করেছিল। দেশদ্রোহিতার কথা শোনানোকে আমি পরোয়া করি না। কে এ ধরনের হুমকি দেখাবে?”

গণফোরাম সভাপতি বলেন, “এ ধরনের কথা যারা বলে, তাদের ব্যাপারে আমার বলার কিছু নেই। ওনার মতো মানুষের এ ধরনের কথা বলা শোভা পায় না। এটা ছেলেমানুষের কথা। কিছু না জেনে, না বুঝে বলেছে। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য।”

মাহমুদুর রহমান মান্নার টেলিফোন আলাপের প্রসঙ্গে তুলে তিনি বলেন, “টেলিফোন আলাপ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমি দেশেও ছিলাম না। দেশে ফিরে পত্রিকা দেখে জেনেছি। পরে আমাকে মিছিলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আমি বলেছি, এসব জিনিস পরিষ্কার না হলে মিছিলে যাওয়া যাবে না।”

দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে কেউ অস্বাভাবিক ব্যবস্থায় রাখতে পারে না। দেশে যা হচ্ছে, তাকে সুস্থ রাজনীতি বলা যাবে না। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখা সুস্থ রাজনীতি নয়। এটি এক ধরনের রোগ। গুম-হত্যা করে রক্ষা পাওয়া যাবে না।’

ড. কামাল বলেন, পেট্রলবোমাসহ সব ধরনের নৃশংসতার বিরুদ্ধেই তার দল কথা বলে। বোমা মেরে গুটিকয়েক মানুষকে মেরে ফেলা যায়। ১৬ কোটি মানুষকে মারা যায় না।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংলাপের বিকল্প নেই- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, সভ্য সমাজে আলাপ আলোচনা করেই সমাধান করা হয়। আর আলোচনা শুধু বড় দুটি দলের মধ্যে নয়, সব রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গেও করতে হবে।

সভায় অন্যদের মধ্যে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি মফিদুল ইসলাম খান, সুব্রত চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল আজিজ ও তবারক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।