হাইওয়ে ও ব্রিজ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির দাবি

0
90
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন আবু আহমেদ
জাতীয় প্রেসক্লাবে 'বর্তমান প্রেক্ষাপট শেয়ারবাজার ভাবনা' গোলটেবিল বৈঠক
জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপট শেয়ারবাজার ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক

দেশের পুঁজিবাজারে হাইওয়ে ও বিভিন্ন সেতু তালিকাভুক্তর দাবি জানিয়েছেন পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ আবু আহমেদ।

সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপট শেয়ারবাজার ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল এক বৈঠক আলোচনায় তিনি এ দাবি জানান। এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেড ও দ্যা রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম যৌথভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

দেশের পুঁজিবাজারে হাইওয়ে ও বিভিন্ন সেতু তালিকাভুক্তির যুক্তি তুলে ধরে আবু আহমেদ বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের আয় হচ্ছে এমন প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি করা উচিৎ।

তিনি বলেন, এ জন্য পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলন করে রাস্তাগুলোকে আরও উন্নতমানের করা যেতে পারে। কারণ মানুষ খুব ভালোভাবে চলাফেরা করতে চায়।

তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বাচবিচার করেই বিনিয়োগ করতে হবে। মনে রাখতে হবে এটা আপনার টাকা। আপনিই এখানে বিনিয়োগ করছেন। এর প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ আপনাকে করতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে বিশ্লেষণ করতে পারলে অবশ্যই এখান থেকে লাভবান হওয়া যাবে।

তিনি বলেন, এখনও পুঁজিবাজারের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দক্ষতা ও সততার মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারদের কাজ করতে হবে। কারণ দক্ষতা ও সততার সমন্বয় থাকা খুবই গুরত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জিডিপিতে ক্যাপিট্যাল মার্কেটের ভূমিকা নিতান্ত নগন্য হয়ে পড়েছে। কারণ ব্যাংকগুলো থেকে যে পরিমাণ মূলধন উত্তোলন করা হচ্ছে সেই অনুযায়ী মার্কেটে বিনিয়োগ হচ্ছে না। তাই এর জন্য প্রফেশনাল ম্যানেজমেন্ট থাকতে হবে। সেই সঙ্গে আইপিওকে আরও কার্যকরি করে ভালোমানের কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনতে হবে।

সরকারি কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। এই কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে সচিবসহ অন্যরা বিরোধীতা করে। কারণ এর মাধ্যমে তাদের অনেকেরই স্বার্থের ঘা পড়ে। এছাড়া  বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসিসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় থাকা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

গোল টেবিল বৈঠকের সভাপতি দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু বলেন, পূঁজিবাজারের সম্বাবনাকে কাজে লাগাতে বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে কার্যকরি ভূমিকা পালন করতে হবে। সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিভিন্ন নীতির বাস্তবায়ন হতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

এর আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার বালা, ডিএসইর পরিচালক ও সাবেক সভাপতি মো. শাকিল রিজভী, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডিএসইর সাবেক সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়ালি-উল-মারুফ মতিন, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএমবিএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান বক্তব্য রাখেন।

বক্তরা পুঁজিবাজারের বিভিন্ন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পুজিবাজার সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার নিষ্পত্তি ও আইন দ্রুত কার্যকরের করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বক্তরা।

অর্থসূচক/জিইউ/এসইউ/এসএ/