মোবারকের ফাঁসির আদেশ

0
85
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় রায়ের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হচ্ছে ।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় রায়ের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হচ্ছে ।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় রায়ের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হচ্ছে ।

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মোবারক হোসেনকে  মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত এই নেতার বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা, অপহরণ ও লুটতরাজের ৫টি অভিযোগ আনা হয়।

এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার টানমান্দাইল ও জাঙ্গাইল গ্রামে ৩৩ জনকে হত্যা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড ও সুহিলপুরের আব্দুল খালেককে হত্যায় আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া ৩ অভিযোগ থেকে তাকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার দুপুর  ১২টার পর জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসাইন ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, যুদ্ধাপরাধের ৫ ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল মোবারকের বিচার শুরু হয়। সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত ২ জুন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

মোবারকের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগের মধ্যে ছিল- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার টানমান্দাইল ও জাঙ্গাইল গ্রামে ৩৩ জনকে হত্যা, আনন্দময়ী কালীবাড়ী রাজাকার ক্যাম্পে আশুরঞ্জন দেবকে নির্যাতন, ছাতিয়ান গ্রামের আব্দুল খালেককে হত্যা, শ্যামপুর গ্রামের ২জনকে অপহরণ করে একজনকে হত্যা এবং খরমপুর গ্রামের একজনকে আটক রেখে নির্যাতন। এসব অপরাধ ১৯৭১ সালের অগাস্ট থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

২০১৩ সালের ২০ মে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রসিকিউশনের মোট ১২ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দেন।

এরা হলেন- মামলার মুক্তিযোদ্ধা দারুল ইসলাম,শহীদ আব্দুল খালেকের মেয়ে খোদেজা বেগম ও ছেলে রফিকুল ইসলাম,মো.খাদেম হোসেন খান,আলী আকবর, মো.আব্দুল মালেক,মুক্তিযোদ্ধা ননী গোপাল মল্লিক,আব্দুস সামাদ,শহীদজায়া ভানু বিবি,আব্দুল হামিদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট চমন সিকান্দার জুলকারনাইন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্যামল চৌধুরী।

গত ২৫ নভেম্বর প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং তাদের আসামিপক্ষের জেরা শেষ হয়। আর আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন আসামি মোবারক হোসেন নিজে ও তার বড় ছেলে মোহাম্মদ আসাদ উদ্দিন। উভয় সাক্ষীকেই সাক্ষ্য দেওয়া শেষ হলে জেরা করে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়ার নয়াদিল গ্রামের মোবারক একাত্তরে স্থানীয় রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের তৈরি রাজাকারের তালিকায়ও তার নাম রয়েছে।

একাত্তর পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করলেও পরে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং এক পর্যায়ে আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। ৩ বছর আগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

একাত্তরে একটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ২০০৯ সালের ৩ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোবারকের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়।

তখন হাই কোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন তিনি। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তার মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি মোবারকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ১২ মার্চ অভিযোগ আমলে নিয়ে জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

এসএম