বিটি বেগুনের সাফাই গাইলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

0
87
‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা। ছবি: খালেদুল কবির নয়ন
‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা। ছবি: খালেদুল কবির নয়ন
‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা। ছবি: খালেদুল কবির নয়ন

দেশের বিভিন্ন কৃষক ও পরিবেশবাদী সংগঠন বিটি বেগুন চাষের সমালোচনা করলেও এর পক্ষে সাফাই গাইলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিটি বেগুন চাষে কৃষককে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিটি বেগুন চাষে কিটনাশক কম ব্যবহার হয়। তাতে উৎপাদিত বেগুন মানুষের জন্য নিরাপদ হবে।

‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই কথা বলেন। বাংলাদেশে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সাংবাদিক ফোরাম (এফইজেবি) অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

বিটি বেগুনের সাফাই গেয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে প্রচলিত বেগুন চাষের মওসুমে প্রায় ৮০ বার কিটনাশক স্প্রে করতে হয়। সে ক্ষেত্রে বিটি বেগুন সম্পূর্ণ বিপরীত। এই বেগুন চাষে মাত্র দুই থেকে একবার কিটনাশক স্প্রে করলেই চলে। কখনও পুরো মওসুমে কিটনাশক স্প্রে করাই লাগে না।

তিনি আরও বলেন, আমার দেশ আমেরিকায় জৈববিদ্যার মাধ্যমে উদ্ভাবিত শস্যের কারণে কিটনাশকের ব্যবহার কমেছে। যার কারণে বিষাক্ত কিটে বিলুপ্তপ্রায় পাখি ও বন্য প্রাণির সংখ্যা বাড়ছে।

প্রসঙ্গত, জিন প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবন করা বেগুনের নাম বিটি বেগুন। একটি ব্যাক্টেরিয়ার জিন ঢুকিয়ে দিয়ে গবেষণাগারে এই কৃত্রিম বেগুন তৈরি করা হয়েছে। যাতে বেগুনগাছের পাতা, ডগা ও  বেগুনে কোনো পোকার আক্রমণ না হয়। ২০০৫ সালে মার্কিন বহুজাতিক বীজ কোম্পানি মনসান্তো ও ভারতীয় বীজ কোম্পানি মহারাষ্ট্র হাইব্রিড সিড কোম্পানি লিমিটেডের (মাহিকো) বিটি বেগুনের সত্ত্ব লাভ করে।

এরপর ২০০৫ সালে মার্কিন দাতা সংস্থা ইউএসএইডের সহায়তায় বাংলাদেশ, ভারত ও ফিলিপাইনকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কৃষি প্রাণপ্রযুক্তি সহায়তা প্রকল্প-২ বিটি বেগুন প্রকল্প চালু করে।

২০০৫ সালের ১৪ মার্চ বাংলাদেশের পক্ষে বারি (বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট) ও ভারতের মহারাষ্ট্র হাইব্রিড সিড কোম্পানি লিমিটেড (মাহিকো) এবং কৃষি প্রাণপ্রযুক্তি সহায়তা প্রকল্প-২-এর পক্ষে শতগুরু ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস প্রাইভেট লিমিটেড তৃপক্ষীয় ‘সত্গুরু চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। ওই বছরই মনসান্তো ও মাহিকোর সহায়তায় বারি দেশের জনপ্রিয় ৯ জাতের বেগুনে ব্যাকটেরিয়া বিটি জিন সংযুক্ত করে।

জাতীয় বীজ বোর্ড ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর উত্তরা, কাজলা, নয়নতারা ও বারি বেগুন-৬-কে পৃথিবীর প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে অনুমোদিত বিটি বেগুন ছাড় দেয়।

স্বাস্থ্যগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কিনা নিশ্চিত না হওয়ায় ভারতে জিনগতভাবে পরিবর্তিত (জিএম) শস্য বিটি বেগুন চাষের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, ফিলিপাইনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বিটি বেগুনের মাঠপর্যায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

গবেষকরা বলছেন, বিটি বেগুন খাওয়ার ফলে মানবদেহে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। রক্তের কোষের ক্ষতিসহ যকৃত বিষক্রিয়া তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিটির পরাগরেণু পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

নয়া কৃষি আন্দোলন, নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা ও বিটি বেগুনবিরোধী মোর্চা বলছে, সরকার বিষাক্ত বিটি বেগুন জনগণকে খাওয়ানোর সব ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। সংগঠনগুলো অবিলম্বে এর চাষ সম্প্রসারণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে একই সঙ্গে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালে বিটি বেগুনের যে চারটি জাতের অনুমোদন দিয়েছে তাও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তারা।

এসইউএম