১০ হাজার কোটি টাকার সঙ্কটে পাওয়ারগ্রিড

0
87
Powergrid
পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ এর লোগো
Powergrid
পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ এর লোগো

দেশের একমাত্র বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানি পাওয়ারগ্রিড ১০ হাজার কোটি টাকার হিসাব জটিলতায় আছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এ কোম্পানির হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের কোনো তালিকা নেই। গুদামে থাকা শত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কোনো হিসাব ও কাগজপত্র ছাড়াই বের হয়ে যাচ্ছে। দেড়শ কোটি টাকার পাওনা আদায় নিয়ে সংশয় থাকলেও তার বিপরীতে কোনো সঞ্চিতি রাখছে না কোম্পানিটি। কোম্পানির নিরীক্ষক সাইফুল শামসুল আলম অ্যান্ড কোম্পানির পর্যবেক্ষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।

পুঁজিবাজারে জ্বালানি-বিদ্যুত খাতের এ কোম্পানিটির ব্যালেন্সশীটে বছরের পর বছর ধরে ৭ হাজার ২৪৯ কোটি ৯১ লাখ টাকার সম্পদ দেখিয়ে আসছে।এর মধ্যে স্থায়ী সম্পদের পাশাপাশি আছে প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতি। বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্তৃপক্ষ (ডেসা), বর্তমানে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) কাছ থেকে এ সম্পদ পাওয়ারগ্রিডে স্থানান্তরিত হয়েছে। কিন্তু এসব সম্পদের কোনো রেজিস্টার নেই।নেই অন্য কোনো নথিপত্র।নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সরজমিনে এসব সম্পদের অস্তিত্ব যাচাই করতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, পাওয়ারগ্রিড কর্তৃপক্ষ তাদের সম্পদের সঠিক তালিকা তৈরি ও তার মূল্য নির্ধারণে ২০১১ সালে একটি চার্টার্ড একাউনটেন্সি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিয়েছিল।কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তারা কাজ শেষ করতে না পারায় ওই চুক্তিটি বাতিল করা হয়।

পাওয়ারগ্রিডের হিসাবে দেখানো হয়েছে তাদের গুদামে ৮৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা মূল্যের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য মাল রয়েছে। কোম্পানিটির গুদামের সংখ্যা ৩১ টি। এর মধ্যে ৮ টি গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এ সময় তারা দেখেছে, এসব গুদাম থেকে মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও মাল বাইরে গেলেও তার সঠিক কোনো রেকর্ড রাখা হচ্ছে না।বিশেষ করা কোম্পানিটির তৈরি করা হিসাবে তা সঠিকভাবে পাওয়া যায়নি।ফলে ৮৬ কোটি ৪২ লাখ টাকার কথিত যন্ত্রাংশ ও মালের আদৌ কোনো অস্তিত্ব আছে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আরও বলছে, পাওয়ারগ্রিড কর্তৃপক্ষ তার হিসাবে দেখাচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে তারা ১৪২ কোটি টাকা পাবে। এর মধ্যে ডিপিডিসি, ডেসকো ও পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে যথাক্রমে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, ১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ও ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাবে। বিদ্যুত সঞ্চালনের মাশুল হিসেবে এ অর্থ পাবে পাওয়ারগ্রিড। অন্যদিকে সাবেক ডেসার কাছে মেরামত ব্যয় বাবদ পাবে ১০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।এ পাওনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে পাওয়ারগ্রিডের বিরোধ আছে। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ধারণা এ টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

বিধি অনুসারে সন্দেহজনক পাওনার বিপরীতে সঞ্চিতি রাখতে হয়। কিন্তু পাওয়ারগ্রিড কর্তৃপক্ষ তা করছে না। এটি করা হলে ৩০ জুন ২০১৩ সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস অনেক বেশি ঋণাত্মক হতো। উল্লেখ, আলোচিত বছরে শেয়ার প্রতি ৬ পয়সা লোকসান দেখিয়েছে পাওয়ারগ্রিড।

এ বিষয়ে জানতে পাওয়ারগ্রিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম আল বেরুনিকে তার মোবাইলে ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।