ঐক্যবদ্ধ হয়ে দারিদ্র্য দূর করতে হবে: গভর্নর

0
81
Atiur_Rahman
শনিবার রাজধানীর আইডিইবি ভবনে  ‘এসএমই উন্নয়ন: কার্যকরী এসএমই অ্যাসোসিয়েশনের ভূমিকা’ শীর্ষক এক  সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ছবি: খালেদুল কবির নয়ন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, দরিদ্রতা হল ভূতের ভয়ের মতো। সবাই এক সাথে থাকলে যেমন ভূতের ভয় দূর হয়; তেমনি দরিদ্রতা দূর করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

দরিদ্রতা দূরীকরণে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে আয়োজিত ‘এসএমই উন্নয়ন: কার্যকরী এসএমই অ্যাসোসিয়েশনের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউশন অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সভাপতি ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী।

সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিআইবিএম, আইডিইবি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সিরডাপ, আরডিএ (বগুড়া), বাংলাদেশ উইম্যান চেম্বার অব কমার্স (বিডব্লিওসিসিআই), বেসিক ব্যাংক লিমিটেড এবং আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড।

গভর্নর বলেন, উদ্যোক্তাদের প্রধান অভাব আস্থা; টাকা নয়। তারা যদি নিজেদের প্রতি আস্থা রেখে কাজ করতে পারে; তবে প্রতিষ্ঠিত হতে কোনো বাঁধা থাকবে না।

নারী উদ্যোক্তাদের আলাদা তহবিল গঠনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নারীদের জন্য ৫০ কোটি টাকার আলাদা একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এখান থেকে খুব সহজে তারা ঋণ নিতে পারবেন।

অর্থনীতিতে এমএসএমই’র অবদান সম্পর্কে গভর্নর বলেন, প্রবৃদ্ধির ৩০ শতাংশই আসে এমএসএমই খাত থেকে। বর্তমান বিশ্বে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালক বেসরকারি খাত। আর বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ৯৯ শতাংশই এমএসএমই।

ড. আতিউর রহমান আরও বলেন, শেষ ৫ বছরে ১৯ লাখ এমএসএমই উদ্যোক্তাকে ৩.৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার অর্থায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ হাজার নারী উদ্যোক্তাদের ১.২ বিলিয়ন ইউএস ডলারের বেশি আর্থায়ন করা হয়েছে। উৎপাদন খাতে ঋণের প্রবাহ আশাব্যঞ্জকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে ২ লাখ ৫০ হাজার নতুন ব্যবসায়ীকে ৬.৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার অর্থায়ন করা হয়েছে।

ভারতীয় হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের ব্যবসা বাণিজ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারি। এর মাধ্যেমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারিত করা সম্ভব। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে চামড়া, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন খাতে আরও উন্নতি করতে পারে প্রতিবেশি দেশ দুটি।

দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি দেশ। এদেশের উন্নয়নে ভারত এবং চীন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। স্বল্প ডাউন পেমেন্টে এবং সহজ কিস্তিতে মেশিনারিজসামগ্রী বাংলাদেশে সরবরাহের জন্য ভারতের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইএমএসএমই অব ইন্ডিয়া’র চেয়ারম্যান রাজীব চাওলা। তিনি বলেন, একটি অ্যাসোসিয়েশন শক্তিশালী হলে, উদ্যোক্তাদের আর ব্যাংকের কাছে যেতে হবে না। অ্যাসোসিয়েশন ব্যাংক থেকে ঋণ এনে উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করবে।

তাছাড়া এমএসএমই খাতে গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই বিশ্ব মন্দায় ভারতের অর্থনীতি খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। যে কারণে বাংলাদেশের মতো দেশেও এমএসএমইতে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ, ডিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মো. সবুর খান, বিডব্লিওসিসিআই’র সভাপতি সেলিমা আহম্মদ, সিরডাপের মহাপরিচালক সিসিপ ইফেন্ডি, বেসিক ব্যাংক’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাইয়্যুম, আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আরএফ হুসাইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুকোমল সিংহ, আইডিইবি’র সভাপতি একেএমএ হামিদ প্রমুখ।

এসএই/