৩টি অপেক্ষমাণ ও ২টির বিচার শেষ পর্যায়ে

ট্রাইব্যুনালে ১২ মামলার রায় ঘোষণা

0
120
liberation war
একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নিহত হওয়া কয়েকজন।
Abul kalam Azad
জামায়াতের সাবেক রুকন আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ১২টি মামলায় রায় প্রদান করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া অপর ৩টির রায় ঘোষণা অপেক্ষমান (সিএভি) এবং ২টি মামলার বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

Abdul kader molla
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা।

 

এদের মধ্যে ১ জনের ফাঁসির রায় কার্যকর এবং কারা হেফাজতে অপর ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অপর আসামিদের মধ্যে যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন স্থানে পলাতক রয়েছেন ৪ জন। অপর ১০টি মামলার আসামি থানা হেফাজতে রয়েছেন।

 

রায় ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা মামলার আসামিরা হলেন- জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ.টি.এম. আজহারুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেন এবং জাতীয় পার্টির নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার।

 

Delwar hossen Saidy
জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।

জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহান ও জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের (পলাতক) মামলায় বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাদের মামলার শেষ ধাপে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে।

 

kamaruzzaman
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান।

ট্রাইব্যুনালের জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, শিগগির অপেক্ষমান থাকা ৩টি মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। আব্দুস সুবহান ও আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হলেই রায় ঘোষণা বিষয়ে আদেশ দেবে ট্রাইব্যুনাল।

 

২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল। এটি ছিল ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়। পলাতক থাকায় এখনও তার ফাঁসি কার্যকর হয়নি। আপিলের সুযোগও পাননি তিনি।

 

Gulam azam
জামায়াতের আমীর গোলাম আযম।

একই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর এই মামলার চূড়ান্ত রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আপিল বিভাগ। গত বছর ১২ ডিসেম্বর তার ফাঁসি কার্যকর হয়।

 

Ali ahsan mohammad
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ হয়। আসামিপক্ষের আপিলে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সাজা কমিয়ে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেন আপিল বিভাগ।

 

একই বছরের ৯ মে জামায়াতের অপর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। কামারুজ্জামানের আপিলের শুনানি শেষে মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখে গত ৩ নভেম্বর রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

 

Salah Uddin Kader
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

২০১৩ সালের ১৫ জুন জামায়াতের আমীর গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি অপেক্ষমান থাকাবস্থায় গত ২৩ অক্টোবর কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

Abdul Alim
বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীম।

একই বছরের ১৭ জুলাই জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। এটি ট্রাইব্যুনালের ৬ষ্ঠ রায়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের আপিল শুনানির জন্য অপেক্ষমান রয়েছে।

 

গত বছরের ১ অক্টোবর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। এর বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য অপেক্ষমান রয়েছে।

 

২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়। গত ৩০ আগস্ট ৮৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।

 

Nizami
জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী।

একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ২ আল-বদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে গত বছরের ৩ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তারা এখনও পলাতক রয়েছেন। ফলে আপিলের সুযোগ পাননি তারা।

 

Mir kashem
জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী।

চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর জামায়াতের বর্তমান আমীর মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। গত ২ নভেম্বর জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এখনও তাদের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়নি। তবে তাদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।

 

গত ১৩ নভেম্বর ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা পলাতক জাহিদ হোসেন ওরফে খোকন রাজাকারের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। এটি ট্রাইব্যুনালের দ্বাদশ রায়।

 

সূত্র: বাসস

এমই/