খানের শেয়ারে ২ দিনে বিনিয়োগকারীদের লোকসান ২৩%

0
74
Khan_Br_PP_Bag
খান ব্রাদার্স লোগো
Khan_Br_PP_Bag
খান ব্রাদার্স লোগো

মঙ্গলবার লেনদেনে আসা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রথম দিনে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছিল। ১ টাকা ১৭ পয়সা ইপিএসের শেয়ারটির দাম উঠেছিল ৭৬ টাকায়। তবে পর দিনই বড় দর পতন হয় এ শেয়ারে। বৃহস্পতিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মত দর হারায় এ শেয়ার। প্রথম দিন যারা হুজুগে পড়ে উচ্চ এ শেয়ার কিনেছেন তারা এখন প্রায় ২৩ শতাংশ লোকসানে আছেন।

মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) খান ব্রাদার্সের শেয়ারের প্রথম লেনদেনটি হয় ৪৭ টাকা দরে। দিনের শেষ লেনদেনটি ৭৮ টাকা দরে নিষ্পন্ন হয়। তবে ক্লোজিং মূল্য (শেষ আধা ঘন্টার লেনদেনের ভারীত্ব গড়) দাঁড়ায় ৭৬ টাকা ৬০ পয়সা। যা প্রাথমিক গণ প্রস্তাবে (আইপিও) শেয়ারটির বিক্রি মূল্যের চেয়ে প্রায় ৬৬ টাকা বা ৬৬০ শতাংশ বেশি।

সর্বশেষ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১ টাকা ১৭ পয়সা। এ ইপিএস এর শেয়ারটির দাম ৭৮ টাকা উঠে যাওয়ায় আঁতকে উঠে অনেকেই। স্পষ্ট হয়ে উঠে শেয়ারটি নিয়ে একটি মহলের কারসাজির চেষ্টা। তবে দ্বিতীয় দিনে এসেই শেয়ারটির মূল্য সংশোধনে অঘটনের চোখ রাঙানি থেমে যায়।

বুধবার শেয়ারটির দাম কমে ১৪ টাকা বা প্রায় ১৮ শতাংশ। মঙ্গলবার ডিএসইতে শেয়ারটির ক্লোজিং প্রাইস ছিল ৭৬ টাকা ৬০ পয়সা। বুধবার তা কমে ৬৩ টাকা ৮০ পয়সা হয়। আর লেনদেনের তৃতীয় দিনে (বৃহস্পতিবার) শেয়ারের দর কমে ৬ টাকা ৪০ পয়সা বা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। লেনদেন শেষ হয় ৫৮ টাকা ৮০ পয়সা। এ হিসাবে দুই দিনে কোম্পনিটির শেয়ারের দাম কমেছে ২৩ দশমিক ২৩ শতাংশ বা ১৭ টাকা ৮০ পয়সা।

উল্লেখ, মঙ্গলবার অভিষেকের দিনেই শেয়ারের আকাশ ছোঁয়া দামের রেকর্ড গড়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আতঙ্কিত করে তুলে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ। এমনিতেই নতুন কোম্পানিগুলোর শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে একটি উদ্বেগজনক অবস্থা তৈরি হয়েছে। কিন্তু খান ব্রাদার্স পিপি ব্যাগে সবগুলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়। বাজারে ন্যুনতম সুস্থতা আছে কি না তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এমনকি শেয়ারটির ওই আচরণে খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কর্তাদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ পড়ে।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে দিতে মঙ্গলবার রাতে  অর্থসূচক অর্থনীতিবিদ, স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংকার এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। এ রিপোর্টে চোখ খুলে যায় বিনিয়োগকারীদের। ফলে তাদেরকে ফাঁদে ফেলা কঠিন হয়ে পড়ে। তাতেই শুরু হয় মূল্য সংশোধন।

প্রথমদিনের শেষভাগে যেসব বিনিয়োগকারী উচ্চ মূল্যে শেয়ারটি কিনেছিলেন, তারা এখন ২৩ শতাংশ লোকসানে আছেন।শেয়ারটির দাম আরও কমতে পারে এমন আশংকায় অনেকের মন থেকে স্বস্তি উধাও।

খান ব্রাদার্স নিয়ে অর্থসূচকের কয়েকটি রিপোর্ট:

প্রথম দিনেই বিপজ্জনক রথে খান ব্রাদার্স

খানের ফাঁদে পা দিলেই পস্তাতে হবে

অর্থসূচক/জিইউ