শিখা অনির্বাণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা  

0
91

Shikha-Anirban-edশিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার সকালে পৃথকভাবে এ শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণীও দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ শুক্রবার সকাল ৮টায় ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণের বেদীতে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কিছু সময় নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল সালাম প্রদান করে। পরে রাষ্ট্রপতি শিখা অনির্বান প্রাঙ্গণে রাখা পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

রাষ্ট্রপতি চলে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিখা অনির্বানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিনি শহীদ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বিউগলে করুন সুর বেজে ওঠে।

এ সময় তিন বাহিনীর প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিন বাহিনীর প্রধানরা শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

সশস্ত্র বাহিনী দিবসে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেছেন, আমাদের সশস্ত্রবাহিনী একটি উঁচু পেশাদার, দক্ষ ও সুশৃঙ্খল বাহিনী। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও জাতিগঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যগণ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যগণ নেতৃত্বের প্রতি পরিপূর্ণ অনুগত থেকে কঠোর অনুশীলন, পেশাগত দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে তাদের গৌরব সমুন্নত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে একটি আধুনিক সশস্ত্রবাহিনী গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছিলেন। তার হাতে গড়া সে বাহিনী আজ পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন তাদের সকল কর্মকাণ্ডে।

তিনি বলেন, আমি আশা করি, সশস্ত্রবাহিনীর প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব এবং উন্নত নৈতিকতার আদর্শে স্ব স্ব দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাবেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করে। এরপর থেকে প্রতিবছর ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো শুক্রবার বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র।

এইউ নয়ন/