মনের ক্ষুধা পূরণে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

0
79
sheikh hasina
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি)
sheikh hasina
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি)

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনের ক্ষুধা মেটাতে আরো বেশি সংস্কৃতি চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের কেবল পেট পূরলেই হবে না। মনের চাহিদা মেটানোর উপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য বেশি বেশি সংস্কৃতি চর্চা করতে হবে।

তবে অপসংস্কৃতি যেন আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির ওপর চেপে না বসে এব্যাপারে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এটাই চিরায়ত যে, সংস্কৃতি ও সাহিত্য চর্চা বিনোদনেরও খোরাক জোগায়। কিন্তু এব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে যে, অপ সংস্কৃতি যেন আমাদের গ্রাস না করে।

প্রধানমন্ত্রী আজ বাংলাদেশ সচিবায়য়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণকালে একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর স্বগত বক্তৃতা দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রনজিত কুমার বিশ্বাস ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আল্লাহর রহমতে বর্তমানে দেশে কোন খাদ্য সংকট নেই। এখন আমরা জনগণের মনের বিনোদনের জন্য অর্থাৎ আরো বেশি সংস্কৃতি চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেছি।

তার সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বের মানুষের সামনে বাংলাদেশের পরিচয় ও স্বকীয়তা তুলে ধরা একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য বর্তমানে সরকার জাতির আত্মপরিচয় সম্মুন্নত রাখতে ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সংস্কৃতি বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষ সংস্কৃতিমনা। এখন সংস্কৃতির ওপর গবেষণার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামনে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিচয়, সংস্কৃতি ও সাহিত্য তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, সংস্কৃতি ও শিক্ষার ওপর নির্ভর করে একটি জাতির পরিচয় ও স্বকীয়তা। কেবল ব্যাপক সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে একটি জাতি আর্থ-সামাজিকভাবে উন্নত হয়।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা পেছনে পড়ে যায় এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এমনভাবে দেশ গড়তে হবে যেন বিশ্বে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে চলতে পারে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশ গড়তে হবে। আমরা বিজয়ী জাতি, আমরা পরাজিত শক্তির আদর্শ নিয়ে চলতে পারি না। দেশের ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পথ চলতে হবে।

সংস্কৃতির বিকাশে বর্তমান সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার ক্ষমতায় এলে দেশজ সংস্কৃতি চর্চা, বিকাশ ও উন্নয়নের ওপর অগ্রাধিকার দেয়া হয়। এ লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্বকীয়তার সংরক্ষণ ও বিকাশে নিরলভাবে কাজ করছে। এই মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে দেশের সংস্কৃতি এবং ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য উপস্থাপন করা।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে তাঁর সরকার অপসংস্কৃতি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। এর ফলশ্রুতিতে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
তিনি বলেন, ১৯৯৬-২০০১ সালের মধ্যে সংস্কৃতি ক্ষেত্রে ১৮৭টি প্রকল্প নেয়া হয়। ৩৬ জেলা ও ৬ উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমীর শাখা প্রতিষ্ঠা, সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা হয়। এ ছাড়া বেসরকারি ৯১৭ লাইব্রেরিকে ৪৫৪ দশমিক ৫০ কোটি টাকার আর্থিক ও গ্রন্থ সহায়তা দেয়া হয়।

তিনি চলতি বছরের ২৬ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩৭ জনের সম্মিলিত জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান করে নেয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি বিশাল সাফল্য ও বিরল সম্মান।

প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার তাঁর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সূত্র: বাসস