‘সম্মান রক্ষায়’ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে হত্যা পরিবারের

0
86
১২ নভেম্বর বিয়ে করেন অভিষেক ও ভাবনা

ভিন্ন বর্ণের একটি ছেলেকে বিয়ে করার ‘অপরাধে’ পারিবারিক ‘সম্মান’ রক্ষায় ২১ বছর বয়সী দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হত্যা করেছে তার পরিবারের সদস্যরা।

১২ নভেম্বর বিয়ে করেন অভিষেক ও ভাবনা
১২ নভেম্বর বিয়ে করেন অভিষেক শেঠি ও ভাবনা যাদব

এ ঘটনায় নিহতের বাবা-মাকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পরবর্তীতে দিল্লি একটি আদালত তাদেরকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।

দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির পুলিশের ডেপুটি কমিশনার সুমন গোয়েল জানিয়েছেন ‘বাবা-মা মেয়েটির মৃতদেহ রাজস্থানের আলওয়ারে তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেতে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। আমরা মেয়েটির বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করেছি। তদন্ত চলছে’।

জানা গেছে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর কলেজে সংস্কৃত ভাষায় অনার্সের (সম্মান) ছাত্রী ছিলেন ভাবনা যাদব। ২ বছর আগে রাষ্ট্রপতি ভবনের সহকারী প্রোগ্রামার অভিষেক শেঠের (২৪) সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর প্রেমে জড়িয়ে পড়েন দুজন। তাদের এ সম্পর্ক ভাবনার স্বচ্ছল পরিবার মেনে নেবে না- এই ভয়ে নিজেরাই গত ১২ নভেম্বর মন্দিরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ।

ভাবনার বাবা জগমোহন যাদব একজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কংগ্রেসের সদস্য। তার মা সাবিত্রী একজন গৃহিণী। তারা উভয়েই মেয়ের এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি।

অভিষেক জানান, এ ঘটনার পর ভাবনার বাবা-মাকে তা জানানো হলে তারা বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানান। তবে তারা জানান আনুষ্ঠানিকভাবে দ্রুত বিয়ের আয়োজন করবেন। এই প্রতিশ্রুতিতে ভাবনা তাদের কাছে ফিরে যায়।

এরপর ১৪ তারিখে ভাবনা তার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এনে অভিষেকের কাছে ফিরে আসে। পরে আবার ভাবনার বাবা-মা একই প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে নিয়ে যায়।

১৫ নভেম্বর রাতেই ভাবনাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে লাশ রাজস্থানের আলওয়ারে নিজ বসতভিটায় নিয়ে গিয়ে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ ঘটনার পর ১৬ নভেম্বর ভাবনার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করতে না পেরে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে গিয়ে একটি এফআইআর দায়ের করেন অভিষেক। আলওয়ারে পুলিশের একটি দল গেলে ভাবনার বাবা-মা জানান, সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। শেষকৃত্যের জন্য তার লাশ নিজ বসতভিটায় আনা হয়।

ইউএম/