সৌর প্রকল্পে দেশি প্যানেল বাধ্যতামূলক করার দাবি

0
86
Sollar panel
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এসএমএমএবি নেতারা।

সরকারের সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা সফল করতে এবং দেশীয় শিল্পের স্বার্থে সরকারি প্রকল্পে দেশীয় প্যানেলের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে সোলার মডিউল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এসএমএমএবি)।

Sollar panel
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এসএমএমএবি নেতারা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এসএমএমএবি নেতারা এ দাবি করেন।

সংগঠনের সভাপতি তানজিল চৌধুরী বলেন, মান পরীক্ষা ছাড়াই দেশে সৌরপ্যানেল আমদানি হচ্ছে। ফলে সৌরপ্যানেলের স্বাভাবিক মেয়াদ ন্যূনতম ২০ বছর হলেও মাত্র ৩-৪ বছরের মধ্যে অধিকাংশ প্যানেলে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এতে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। আর কষ্টার্জিত অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের মধ্যে ৬০ লাখ বাড়ি সৌরবিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু দেশীয় শিল্পকে বাদ দিয়ে শুধু বিদেশি সৌর প্যানেলের ওপর নির্ভরতা সরকারের সৌরবিদ্যুৎ কার্যক্রমকে ব্যর্থ করবে।

রেডিয়্যান্ট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানজিল চৌধুরী বলেন, সরকারের পরিকল্পনাকে সফল করতে এবং এর দীর্ঘস্থায়ী সুফল পেতে সব সরকারি প্রকল্পে দেশীয় সৌরপ্যানেলের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।

নিম্নমানের সৌরপ্যানেলের আমদানি বন্ধ করতে কঠোর আইন তৈরির পাশাপাশি বিএসটিআই- এর মতো শক্তিশালী মান-নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা গঠন করার দাবিও জানান তিনি।

এসএমএমএবির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আনসার উদ্দীন বলেন, এ শিল্পে সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা নাই। উৎপাদক ও আমদানিকারক উভয়েই জিরো ট্যারিফ সুবিধায় কাঁচামাল ও ফিনিশড প্যানেল আমদানি করছেন। প্রতি বছর প্রায় ৩০০ কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতের জন্য সুস্পষ্ট ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। নতুবা দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগকৃত ২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ মুখ থুবড়ে পড়বে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম বাকী মাসুদ বলেন, দেশে সৌরবিদ্যুতের বার্ষিক চাহিদা বর্তমানে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট। ৯টি দেশীয় কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা ৮০-১০০ মেগাওয়াট। দেশের বর্তমান চাহিদার পুরোটাই আমরা যোগান দিতে পারি। কিন্তু অসম বাজার প্রতিযোগিতার কারণে মোট চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ আমরা সরবরাহ করতে পারছি।

জিটিএস সোলারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হালিম মৃধা বলেন, বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত সৌরপ্যানেল দুবাই, ইউরোপ, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম প্রভৃতি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। আমরা উন্নতমানের প্যানেল রপ্তানি করছি। অপরদিকে দেশে নিম্নমানের প্যানেল আমদানি হচ্ছে।

সৌরবাংলা সোলারের পরিচালক শামীম চৌধুরী বলেন, সৌরপ্যানেলের মান পরীক্ষার জন্য সরকারের কোনো আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব নেই। দেশীয় উৎপাদনকারীদের প্রত্যেকের নিজস্ব ল্যাব আছে। সরকার যতদিন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ল্যাব তৈরি করতে না পারছে ততদিন দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ল্যাব ব্যবহারের প্রস্তাব দেন তিনি।

আভা রিনিউয়েবল এনার্জির পরিচালক আব্দুর রউফ বলেন, ক্রেতার অধিকার সংরক্ষণ, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা এবং নিম্নমানের বিদেশি প্যানেলের ডাম্পিং ঠেকাতে আমদানিকৃত ফিনিশড প্যানেলের ওপর ন্যূনতম ২০-২৫ শতাংশ হারে কাস্টমস ডিউটি এবং সমহারে সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি আরোপ করতে হবে।

এসময় বিদ্যুৎ উৎপাদনে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এবং জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টার ভূয়ষী প্রসংশা করেন এসএমএমএবির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- রহিমআফরোজ রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনাওয়ার মিসবাহ মঈন, বেনেকো সোলার এনার্জি লিমিটেডের এ.কে.এম. মজিবুর রহমান, প্যারাসল এনার্জি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মসিউর রহমান প্রমুখ।

এমআই/এমই/