ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত ১, শাবি বন্ধ

0
103
SABI
ফাইল ছবি
SABI
ফাইল ছবি

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে  আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আজ বুধবার ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। এ ঘটনার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নিহত শিক্ষার্থী সুমন দাস সিলেট শহরের ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সংঘর্ষের পর গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি মারা যান।

পায়ে ও পেটে পুলিশের রাবার বুলেট লাগার পর প্রক্টর হিমাদ্রী শেখর রায় নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নেন।

এদিকে সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বেলা ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠক বসে। বৈঠকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। আজ বিকেল ৪টার মধ্যে ছাত্রদের এবং কাল শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই সময়ে প্রথম বর্ষে ভর্তির কার্যক্রম চলবে।

সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলেও ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ তৎপর রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তীর সমর্থক নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকে। সাধারণ সম্পাদক ইমরান খানের সমর্থকরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তারা ক্যাম্পাসে মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ও অ্যাকাডেমিক ভবন এবং শাহপরাণ হলে ভাংচুর চালায়।

এক পর্যায়ে শাহপরাণ, বঙ্গবন্ধু ও সৈয়দ মুজতবা আলী হলের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি অঞ্জন রায় ও মিসবাহ রেদওয়ানের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সময় দুই পক্ষের কর্মীদের হাতেই রামদা, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। কয়েকজনকে ছোট আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। দুই পক্ষেই অস্ত্র হাতে বেশ কয়েকজন বহিরাগতকে দেখা যায়।

ঘণ্টাখানেক পর অতিরিক্ত পুলিশ ক্যাম্পাসে এলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা হলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক আমিনুল হক ভূইয়া বলেন, আমরা দুই পক্ষকেই শান্ত করার চেষ্টা করছি আমরা। সবাইকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করেছি।

বেলা পৌনে ১২টার দিকে আবার দুই পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময়  ক্যাম্পাসে পরপর দুই দফা গুলির শব্দ শোনা যায়।

সংঘর্ষ থামাতে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে আহত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে সেবা নেন প্রক্টর হিমাদ্রী শেখর রায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের ডেপুটি চিফ জাহিদুল ইসলাম জানান,  প্রক্টরের পেটে ও পায়ে পুলিশের রাবার বুলেট লেগেছে। দুইজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে আরো কয়েকজনকে।

গুলিবিদ্ধ দুইজনের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র খলিলুর রহমান। তিনি ছাত্রলীগ নেতা অঞ্জনের সমর্থক হিসাবে পরিচিত। অন্যজনের পরিচয় জানা যায়নি।

সভাপতিপক্ষের হিসাবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সবুজ অভিযোগ করে বলেন, অঞ্জনের লোকজন আমাদের ওপর অতর্কিতে হামলা করেছে। তাদের গুলিতে আমাদের অন্তত চারজন আহত হয়েছে। আঘাত পেয়েছে আরো অন্তত ১৫ জন।

অন্যদিকে অঞ্জনের পক্ষের লোকজন হামলার জন্য সঞ্জীবন সমর্থকদের দায়ী করেছেন।

সংঘর্ষ শুরুর আগে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ ভাংচুর চালালে পুলিশ নীরব ছিল- শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার রহমতুল্লাহ বলেন, প্রশাসন আমাদের কাছে যতোটুকু সহযোগিতা চেয়েছে তা আমরা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন না চাইলে আমরা ফোর্স ব্যবহার করতে পারি না।

এএসএ/