খেলাপি ঋণের ৫৮ % রাষ্ট্রায়ত্ত-বিশেষায়িত ব্যাংকের

0
104
loan money
ফাইল ছবি
loan money
ফাইল ছবি

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ২৯০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ।

এর মধ্যে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ৪টি ও বিশেষায়িত ৪টি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। এ খেলাপি ঋণ মোট ঋণের ৫৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, বিশেষায়িত ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে বেসিক ব্যাংক লিমিটেড। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের অর্ধেকেরও বেশি খেলাপি হয়েছে। ব্যাংকটি মোট ঋণ বিতরণ করেছে ১১ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৬ হাজার ১৪৯ কোটি টাকার ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

আর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৯১ কোটি টাকা, যা তাদের বিতরণকৃত ঋণের ৩৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ২৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এছাড়া রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ৮৯ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

একই সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা।

এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা, যা তাদের বিতরণকৃত মোট ঋণের প্রায় ৩৮ শতাংশ। অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা, যা তাদের বিতরণকৃত ঋনের ২১ দশমিক ০৫ শতাংশ। রূপালী ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৩০ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ১৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। আর জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের প্রায় ১৫ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৭৪৪ কোটি টাকা, ইসলামী ব্যাংকের ২ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৯৬২ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংকের ১ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা, ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংকের ১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৮২৯ কোটি টাকা, ব্র্যাক ব্যাংকের ৮১২ কোটি টাকা, ব্যাংক এশিয়ার ৮৯৫ কোটি টাকা, এনসিসি ব্যাংকের ৮২৪ কোটি টাকা এবং পূবালী ব্যাংকের ৯৬০ কোটি টাকা ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশি ৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা। এসব ব্যাংকের বিতরণকৃত মোট ঋণের ৭ দশমিক ০১ শতাংশ খেলাপি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুন প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ৫১ হাজার কোটি টাকা এবং সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ২৯০ কোটি টাকায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে মন্দ বা ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত হয়েছে ৪২ হাজার ৩৫২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার ঋণ, যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ।

তবে ব্যাংকের মোট শ্রেণিকৃত ঋণের মধ্যে মন্দ বা ক্ষতিজনক ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ব্যাংকিং নিয়মানুসারে ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত ঋণের পুরোটাই সঞ্চিতি রাখতে হবে।

এসএই/এসবি