আজ ফেলানি হত্যা দিবস

0
97
felani

felaniফেলানি হত্যা দিবস আজ। জীবিকার সন্ধানে মা-বাবার সঙ্গে ইটভাটায় কাজ করতে ভারতে গিয়েছিল ১৪ বছরের কিশোরী ফেলানি। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারির এই দিনে ভোরবেলা কাঁটাতারের প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে নিজ দেশে ফেরার চেষ্টা করে ফেলানি। এ্‌ সময় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তের ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানিকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলি করার পর তাকে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। চার ঘণ্টা প্রাণ নিয়ে পানি পানি করে চিৎকার করতে থাকে ফেলানি।এক সময় কাঁটাতারে ঝুলন্ত অবস্থাতেই তার মৃত্যু ঘটে। দীর্ঘক্ষণ তাঁর দেহ কাঁটাতারের বেড়ার ওপরেই ঝুলে ছিল।

পরে বিএসএফ লাশ নামিয়ে ভারতের কুচবিহারে নিয়ে যায়। মৃত্যুর ৩০ ঘণ্টা পর ৮ জানুয়ারি বর্ডারগার্ড, পুলিশ প্রশাসন ও বিএসএফ এর মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকের মাধ্যমে ফেলানির লাশ ফুলবাড়ী থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

নিহত ওই কিশোরীর ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় বাংলাদেশে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই হত্যাকান্ডের জন্য বিএসএফের তীব্র নিন্দা জানায়।

পরে বিএসএফের ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন এবং বিএসএফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু সেনাবাহিনীর কোর্টমার্শালের অনুরূপ বিএসএফের নিজস্ব আদালত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্ট এই খুনের মামলার আসামি অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে রায় দেয়।

এ রায়ে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় বাংলাদেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে। ফলে মামলাটি আবার পুনর্বিচনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসএফ। কিন্তু এখনও ফেলানি হত্যার সুষ্ঠু বিচার পায়নি তারা বাবা-মা।

কেএফ