শেষ হলো অনেক দামের ভোট

0
40

Vot-Counting_Dominic--1অবশেষে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, কঠোর নিরাপত্তা, হামলা, অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের  ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ১৮ দলীয় জোটের অংশগ্রহণ ছাড়া সারা দেশে ১৪৭ টি আসনে আজ সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহন শুরু হয়। তবে নানা ঘটনার কারণে ওই সব এলাকার মোট ১৮৩টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহন বন্ধ হয়েছে, পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ও দুবৃত্তদের হামলায় নির্বচনী কর্মকর্তা খুনসহ ১৪ জনের নিহত হওয়া, প্রার্থীতা প্রত্যাহার, ভোট কারচুপির অভিযোগও হয়েছে অনেক।

এদিকে ভোট গ্রহণ শেষে শুরু হয়েছে গণনার কাজ।

তবে কেবল আজকের এই হতাহতের ঘটনা নয়, কয়েক মাস ধরে চলতে থাকা সহিংসতায় শতাধিক প্রান, শতশতকোটি টাকার বাজেট, সহিংসতায় যানবাহন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগুন সেই সাথে দেশের মানুষের সপ্নসহ অনেক কিছুর বিনিময়ে আজকের এই নির্বাচন সম্পন্ন হলো।

সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বচন কমিশনের আয়োজনেরও কোনো কমতি ছিল না। বাড়তি ভাতা দিয়ে নিরাপত্তায় সেনা মোতায়েনসহ ক্ষতিপূরনের আশ্বাস দিয়ে নির্বাচন কাজে নিয়োজিত করা হয় কর্মকর্তাদের।

এ জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেটও রাখা হয় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার। তবে শেষ পর্যন্ত অর্ধেকরও বেশি আসনে একক প্রার্থী হিসেবে ১৫৩ জন নির্বাচিত  হওয়ায় বাজেটও কমিয়ে অর্ধেকে আনা হয়।

দেশের মোট ভোটারের শতকরা ৫২ ভাগের ভোট প্রয়োগের সুযোগহীন ভোটে কনকনে ঠাণ্ডা, হামলার আশংকা আর কার্যত একটি দলের এক তরফা নির্বাচনের কারণে বেশির ভাগই কেন্দ্রই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম।

গত ২৫ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, ২ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয় ৫ ও ৬ ডিসেম্বর। এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয় ১৩ ডিসেম্বর। তফসিল অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে এক হাজার ১০৭ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তারা ২০৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।

এর আগে থেকেই নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বলে দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে ঘোষণা দেয়। কিন্তু সরকারি দল আওয়ামী লীগ তাদের সে দাবী প্রত্যাক্ষ্যান করে এবং নির্বাচনকালীন একটি সরকার গঠন করে তার অধীনেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়।

নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা খাতে ব্যয় অর্ধেক করা হয়েছে

দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ৯ কোটি ১৯ লাখ। নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য মতে, এবার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ৪ কোটি ৩৬ লাখ ভোটার। আর ৫ কোটির মতো ভোটার, মানে শতকরা ৫২ ভাগ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগই পাননি।

আর তাই এবারের নির্বাচনে খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। আইন-শৃঙ্খলা খাতে ২৮৮ কোটি টাকার পরিবর্তে এখন খরচ হচ্ছে মাত্র ১৪৪ কোটি টাকা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার ভোটকেন্দ্র ১৮,১২৩টি, ভোট কক্ষ ৯০,৭২৪টি, প্রার্থী ৩৮৬ জন এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার ২৮৬ জন৷