পাখি হওয়ার স্বপ্ন পূরণ,ভলোকপ্টারে আকাশ ভ্রমণ

Volocopter_Flyআমাদের জীবনকে কতভাবেই না সহজ করে দিচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।নিত্য নতুন আবিষ্কার স্বপ্নকেও যেন হার মানাচ্ছে। এবার আপনার পাখি হওয়ার স্বপ্নকে পূরণ করতে আসছে ভলোকপ্টার। ১৮ পাখার ইলেকট্রনিক এ কপ্টার নিয়ে আপনি পাখির মতই উড়ে বেড়াতে পারবেন আকাশে-বাতাসে। যেতে পারবেন যেখানে সেখানে।

গত সপ্তাহে জার্মান তিন প্রকৌশলীর তৈরি এ বিশেষ কপ্টারটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফলভাবে শেষ করেছে। উচ্ছ্বাসে স্টিফেন উলফ থমাস সেনকেল, আলেকজেন্ডার জোসেলের মিলিত স্বপ্নের ফসল ভলোকপ্টারটি পাশ্চাত্যের প্রযুক্তি প্রেমিকদের মুগ্ধ করেছে।

সম্প্রতি ইউটিউবে ভলোকপ্টারের উড্ডয়নের একটি ক্লিপ আপলোড করা হয়। এতে দেখা যায়,একজন ব্যাক্তি অদ্ভূত দশন একটি যানে আকাশে উড়ছেন। তার চারপাশে গোল চাকতিতে ঘুরছে ১৮ টি পাখা। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ৮০ লাখের বেশি মানুষ ভিডিও ক্লিপটি ডাউনলোড করে দেখেছে।

সফটওয়ার প্রকৌশলী স্টিফেন উলফ ভলোকপ্টারটির নকশা করেন। ভলোকপ্টারে ১০০ কেজি ওজনের ব্যাটারি রয়েছে। পুরো চার্জে ভলোকপ্টার দুজন যাত্রী নিয়ে ঘণ্টায় ৭০ কিমি বেগে ছুটতে পারে। ভলোকপ্টারের ওজন ৩০০ কেজি। বর্তমানে এটি ২০ মিনিট পর্যন্ত আকাশে উড়তে পারে।

প্রথম পরীক্ষায় ২০ মিটার উঁচু পর্যন্ত উড়ায় উৎসাহিত হোন এর প্রকৌশলীরা। হালকা কার্বনের ফ্রেম দিয়ে তৈরি হয় ভলোকপ্টারে প্রপেলার। আধুনিক নেভিগেশন যুক্ত করা হয় এতে। ভলোকপ্টার নির্মাণে খরচ হয়েছে ৪ মিলিয়ন ইউরো (৫৪ লাখ ডলার)।বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা। তবে আগামি দিনে দাম অনেক কমে আসবে বলে আশা করছেন এর নির্মাতারা।

তিন প্রকৌশলী ই-ভলো নামের একটি কোম্পানি গঠন করেছেন। তারা বিশেষ এ হেলিকপ্টারটিকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে নিয়ে আসতে চান। তারা চমৎকার এ আকাশ যানের ভবিষ্যত নিয়ে অনেক আশাবাদী।

ই ভলোর প্রধান নির্বাহী স্টিফেন উলফ বলেন, এক সময় মানুষ গাড়িতে ভ্রমণ করতে চাইবে না। তারা চাইবে কোনো এয়ারক্রাফটে চড়ে ভ্রমণ করতে। সাধারণ হেলিকপ্টার চালানো বেশ কঠিন। এটি সবার পক্ষে সম্ভব না। আবার এসব কপ্টারের দাম অনেক। এদিক থেকে ভলোকপ্টার পুরো বিপরীত। এটা চালানো যেমন সVolocopter_1হজ, তেমনই দামও অনেক কম।তাছাড়া ইলেকট্রনিক হওয়ায় এটি অনেক বেশি পরিবেশসম্মত।

ই-ভলো আশা করছে, ২০১৫ সালের মধ্যে তারা প্রথম ভলোকপ্টারটি বিক্রি করতে পারবে। আর ততদিনে এর দামও কমে আসবে তিন থেকে চার লাখ ডলারের মধ্যে। বাংলাদেশী মুদ্রায় তখন হয়ত এর দাম পড়বে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা।