রংপুর-১ আসন; এরশাদের ভাতিজা আউট ভাগিনা ইন

Rongpur

Rongpurঅবশেষে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-১ আসনে আপন ভাতিজা আসিফকে সরিয়ে ভাগিনা রাঙ্গার মনোনয়ন চূড়ান্ত করলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। শুক্রবার এরশাদ সারাদেশে তার মনোনীত ২৯৯ জন প্রার্থীদের নামের তালিকা ঘোষণা করেন।

জানা যায়, রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া-তারাগঞ্জ) আসনে এরশাদের আপন ছোট ভাই সাবেক এমপি মোজাম্মেল হোসেন লালুর ছেলে হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফকে বাদ দিয়ে ভাগিনা হিসেবে পরিচিত আরেক সাবেক এমপি মশিউর রহমান রাঙ্গাকে মনোনয়ন দিয়েছেন।

এদিকে মনোনয়ন চূড়ান্তের ঘোষণার পর রংপুরের সেনপাড়াস্থ এরশাদের স্কাইভিউ বাসভবনে পরিবারের স্বজনদের মধ্যে দেখা গেছে ক্ষুদ্ধ মনোভাব। আপন বড় আব্বার কাছ থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় ভাতিজা আসিফও বেশ ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন। এরশাদ সিদ্ধান্ত না পাল্টালে ওই আসন থেকেই আসিফ নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে, নাকি অন্য কারও দলে ভিড়বেন তা স্পষ্ট করেন নি তিনি।

এমপি আসিফ বলেন, বড় আব্বা কেন যেন আমার উপর নাখোশ হয়ে আছেন। আশা করি তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন। তিনি দাবি করেন, তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। জনগণ তার সাথে আছে। এবং তাকেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে আবারও চাইছেন।

স্থানীয় জাপা সূত্রে জানা গেছে, এরশাদ তার স্ত্রী রওশনের চাপেই আপন ভাতিজা আসিফকে সরিয়ে রাঙ্গাকে রংপুর-১ আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন। এর আগেও এরশাদ রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রাঙ্গাকে সমর্থন দিয়েছিলেন। পরে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাপে তাকে সরিয়ে নেন। এসময় তার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ায় সাবেক পৌর মেয়র একে এম আব্দুর রউফ মানিক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে দল থেকে বহিষ্কারও করেন এরশাদ। এ বহিষ্কারের জের ধরে স্থানীয় জাপার অনেক তৃণমূলের অনেকেই পদত্যাগ করেন।

এদিকে সাবেক এমপি মশিউর রহমান রাঙ্গার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া  যায় নি।

উল্লেখ্য, রংপুর-১ আসনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভাতিজা আসিফ নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে সেখান থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে মশিউর রহমান রাঙ্গাও এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে রাঙ্গা রংপুর জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।