সুপারসনিক গতিতে সংবিধান সংশোধন কেন- প্রশ্ন ড. কামালের

0
74
kamal hossain
bbc songlap
শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপ।

সংবিধানের সংশোধনের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করা হচ্ছে বলে মনে করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

আজ শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার বিল পাশের আগে সবার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তড়িঘড়ি করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল পাশে আমার ঘোর আপত্তি আছে।

বিল পাশের পর আইন করার আগে আলোচনা করা হবে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনের খসড়ায় কী বলা আছে তা আমাদের জানা নেই। বিল পাশের তিন মাস পর আইন করা হলে তড়িঘড়ি করে ‘সুপারসনিক’ গতিতে কেন এবং কী উদ্দেশ্য এটা করা হচ্ছে আমার বোধগম্য নয়।

বিবিসির সংবাদদাতা আকবর হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু এমপি, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাসিমা আখতার হুসেন।

দর্শকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, বিয়াল্লিশ বছর পরেও আজ সংসদ নিরপেক্ষ নয়। সংসদে দলীয়ভাবে সব সিদ্ধান্ত হচ্ছে। নিরপেক্ষভাবে কিছু ভাবা হচ্ছে না।

অনুষ্ঠানে আব্দুল মতিন খসরু বলেন, বিচারপতিদের অসদাচরণের প্রমাণ কীভাবে হবে তা আইনের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে। কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণিত হলে সংসদ অপসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’

তিনি বলেন, ‘কামাল হোসেনের নেতৃত্বে প্রণীত বাহাত্তরে সংবিধানে ৯৬ অনুচ্ছেদে যা ছিল তাই এবার প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এখন কেন প্রশ্ন তুলছেন এই সংবিধান প্রণেতা?’

তিনি আরও বলেন, অসদাচরণ ও অসামর্থ্যের কারণে কোনো অভিযোগ এলে তা তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত হলেই বিষয়টি সংসদে আসবে। এর আগেও তাই ছিল।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিচার বিভাগের কতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে জানি না। তবে, বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চিরতরে বিদায় দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, যে দেশে বিচারপতি নিয়োগের কোনো আইন নেই সেখানে তাদের বাদ দেওয়ার আইন তড়িঘড়ি করে কেন করা হচ্ছে? সরকারের একদলীয় কার্যকলাপের মাধ্যমে একটার পর একটা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হচ্ছে। এতে করে জনমনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করার ক্ষমতা নেই। অনির্বাচিত সংসদ কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক নাসিমা আখতার হুসেন বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিচার বিভাগ হুমকীর সম্মুখীন হবে। রাজনৈতিক দলগুলো ফায়দা লোটার চেষ্টা করবে।