রায়পুরে লোডশেডিং দুর্ভোগে ২৬ হাজার গ্রাহক

0
59
lokkhipur
লক্ষীপুর- ফাইল ছবি
lokkhipur
লক্ষীপুর- ফাইল ছবি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় দৈনিক ১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং দুর্ভোগে পড়েছে ২৬ হাজার গ্রাহক। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুতের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়া-লেখায় বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মাসের শুরু থেকে প্রতিবার এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিয়ে ৩ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। এর আগে প্রতিবার এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিয়ে ২ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হতো। এভাবে দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

এছাড়াও পৌর শহরের মিল, ফ্যাক্টরির উৎপাদন ব্যাহত, ব্যবসা-বানিজ্য স্থবির, ব্যাংক, বিমা ও অফিস-পাড়ার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। এতে কারখানার মালিক ও ব্যবসায়ীরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছেন।

কয়েক মাস আগে ক্ষুব্ধ হয়ে লোকজন দফায় দফায় সড়ক অবরোধ, অফিসে হামলা, বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন। বর্তমানে এ অবস্থা চলতে থাকলে পূর্বের মত আবারও গ্রাহকরা রাস্তায় আন্দোলনে নেমে পড়বেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

রায়পুর পৌরসভা পানি সরবরাহ শাখা সূত্রে জানা গেছে, অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে পৌরসভার উচ্চ জলাধার টাংকিতে পানি উঠানো ব্যাহত হয়। এ কারণে গ্রাহকদেরকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছেনা। এতে পৌরসভার ২৫ হাজার মানুষ পানির কষ্টে ভুগছেন।

স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, রায়পুর উপজেলায় প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এজন্য ১০-১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ৩-৪ মেগাওয়াট। এ কারণে শহরে দিনের বেলায় ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও ৩ ঘন্টা লোডশেডিং হয়। আর রাতে ১ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে লোডশেডিং হয় ২ ঘন্টা।

রায়পুরে উপকেন্দ্র নির্মিত হলে ছোট লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। এতে লোডশেডিং অনেক কমে যাবে। লো ভোল্টেজ সমস্যারও নিরসন হবে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

রায়পুর পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মাহফুজুর রহমান বলেন, রায়পুরে উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাছাড়া আমরাও লোডশেডিংএর সমস্যায় ভুগছি। চাহিদানুযায়ী চৌমুহনী গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ না করায় এ লোডশেডিং হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তবে শীগগিরই এ অবস্থার উন্নতি হবে বলে জানান তিনি।

এএসএ/