বাল্যবিয়েতে শীর্ষে বাংলাদেশ: ইউনিসেফ

0
112
child marriege
ছবি- প্রতীকী
child marriege
ছবি- প্রতীকী

নারীশিক্ষা কিংবা মহিলা স্বনির্ভরতার ওপর যতই জোর দেওয়া হোক; বাল্যবিয়েতে শীর্ষ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন ইউনিসেফের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে।

ইউনিসেফের বরাত দিয়ে শুক্রবার ভারতের বার্তাসংস্থা দ্যা হিন্দু জানিয়েছে, ১৮ বছরের নিচে বাংলাদেশের প্রতি ৩ মেয়ের ২ জনকে বিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ১৮ বছরের কম বয়সী দুই-তৃতীয়াংশ মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে।

তালিকায় বাংলাদেশের পরেই রয়েছে ভারত, নেপাল ও আফগানিস্তান।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিসেফের রিপোর্ট অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার ৪৬ শতাংশ মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের মেয়ে শিশুদেরকে ক্রমাগত বৈষম্যের দাম দিতে হচ্ছে।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগে দক্ষিণ এশিয়ার অর্ধেক মেয়েদের বিয়ে হয়। এর মধ্যে ১৫ বছর হওয়ার আগে প্রতি ৫ জনের একজনের বিয়ে হচ্ছে। যা বিশ্বের মধ্যে বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ হার।

এতে আরও বলা হয়, বাল্যবিয়ের কারণে এসব মেয়েদের গর্ভে জন্ম নেওয়া ২০ লাখেরও বেশি শিশুকে ৫ বছর বয়স হওয়ার আগেই মৃত্যুর শিকার হতে হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ৩৬ শতাংশ শিশুই অপুষ্টির শিকার হচ্ছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, এই সমস্যার মূলেই রয়েছে দারিদ্র্যতা ও সামাজিক প্রথা; ফলে পিতা-মাতারা নির্দিষ্ট বয়স হওয়ার আগে তাদের মেয়েদের পাত্রের হাতে তুলে দিচ্ছে।

এদিকে প্রতিবেশি দেশ ভারতের ৪২ শতাংশ মেয়ে ১৮ বছরের আগে বিয়ে করেছে। এক্ষেত্রে নিরক্ষরতাকেই মূল কারণ হিসেবে দায়ী করছে ইউনিসেফ।

জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠনটি জানিয়েছে, বাল্যবিয়ে রোধে প্রথম দরকার এসব মেয়েদেরকে শিক্ষামুখী করা; তাদেরকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেহেতু এ সমস্য বেশি প্রকট। তাই এ অঞ্চলে নারীদের জন্য সাপোর্ট নেটওয়ার্ট স্থাপন করতে হবে; বাল্যবিয়ে রোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে; বাবা-মাকে সন্তানের বিয়ে দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

ইউনিসেফ আরও জানায়,  দরকার শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা; যা প্রমাণ হিসেবে বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম এমনকি অপ্রাপ্ত বয়সে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ সমস্যা সমাধানে কাজে দিবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জন্ম নিবন্ধনের হার বাড়লেও ১০ কোটি শিশুর মধ্যে এখনও ৬০ শতাংমের বেশি শিশুর নিবন্ধন হয় না।

এস রহমান/