আমদানি মূল্য কমলেও পেঁয়াজের দাম কমেনি

0
72
পেঁয়াজ
পেঁয়াজ
পেঁয়াজ (ফাইল ছবি)

পেঁয়াজের আমদানি মূল্য কমলেও রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লেও বিক্রেতারা গত সপ্তাহের দামেই পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।  সাধারণ বিক্রেতাদের অভিযোগ আমদানিকারকদের কারসাজির কারণে কমছেনা পেঁয়াজের দাম।

শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগ, খিলাগাঁসহ আরও কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের মতোই প্রতিকেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০ টাকায়। আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৩-৪৫ টাকায়।

জানা যায়, দেশে পেঁয়াজের চাহিদার বড় একটি অংশ পুরণ হয় ভারত থেকে আমদানি করে।  গত জুন মাসের মাঝামাঝিতে ভারত পেঁয়াজের টনপ্রতি সর্বনিম্ম রপ্তানি মূল্য ১৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০০ মার্কিন ডলার করে। এরপর গত জুলাই মাসে রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে আবার ৫০০ ডলার নির্ধারণ করে দেশটি। দুই দফা দর বাড়ানোয় ওই সময় বাংলাদেশেও  পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়।

এরপর গত ২১ আগস্ট ভারত রপ্তানি মূল্য কমিয়ে প্রতি টন পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে ৩৫০ মার্কিন ডলারে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভারত থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজের আমদানি মূল্য দাঁড়ায় ২৪-২৬ টাকা। অথচ রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে এ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০ টাকায়।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, আমদানি মূল্য কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে প্রচুর পরিমাণ ভারতীয় পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করছে। শুধু হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৮০০-১০০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করছে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক হারুন উর রশীদ হারুন জানান,  ভারত সরকার পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য কমানোর ফলে অনেক আমদানিকারক প্রচুর পরিমানে পিঁয়াজের এলসি (ঋণপত্র) খুলেছেন। এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৪০-৫০ ট্রাক অর্থাৎ ৮০০-১০০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে আসছে। এসব পেঁয়াজের আমদানি মূল্য পড়ছে প্রতিকেজি ২৪-২৬ টাকা। আর এখানকার পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬-৩০ টাকা। ভারত থেকে প্রচুর প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি হওয়ায় কোরবানির ঈদের আগে দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তিনি।

মালিবাগ বাজারের নিয়মিত ক্রেতা মমতাজ আহমেদ বলেন, প্রতি বছর কোরবানি ঈদের আগে পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। এবারও তাই হয়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি মূ্ল্য কমলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। কিন্তু যখন আমদানি মূল্য বাড়ে তখন খুচরা বাজারে ঠিকই দাম বেড়ে যায়। সরকারিভাবে বাজারে দামের তদারকি না থাকায় বিক্রেতারা তাদের ইচ্ছা মতো পণ্যের দাম রাখছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন, কাঁচামরিচ, চিচিঙ্গাসহ কিছু সবজির দাম কমলেও বেশিরভাগ সবজি গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি চিচিঙ্গা ৬০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা থেকে কমে ১২০ টাকা, বেগুন ৮০-৯০ টাকা থেকে কমে ৬০-৭০ টাকা  ও মুলা ৫০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বরবটি ৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, সিম ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, টমেটো ১২০-১৩০ টাকা. কচুর লতি ৫০ টাকা, কচুর মুখি ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, দেশি গাজর ৫০-৬০ টাকা, পটল ৫০ টাকা টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দোকানিরা ফুলকপি ৩০-৩৫, পাতাকপি ৩০-৩৫ টাকা, সবুজ শাক আটি ১০ টাকা, লাউ শাক ২০-২৫ টাকা, লাল শাক ১০ টাকা, মুলা শাক ৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা, কলমি শাক ৫ টাকা ও ধনে পাতা (১০০ গ্রাম) ৩০ টাকা, প্রতি হালি লেবু ২০-৩০ টাকা ও কাঁচাকলা হালি ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা, গরুর মাংস ৩০০ টাকা ও খাসির মাংস ৪৮০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি দেশি আদা ১৭০-১৮০ টাকা, চায়না আদা ২৪০-২৫০ টাকা, রসুন ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফার্মের মুরগির লাল ডিম প্রতি হালি ৩৪ টাকা এবং হাঁসের ডিম ৪০ থেকে বেড়ে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মাছের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি পাঙ্গাস ১২০-২২০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০-৯০০ টাকা, বড় টেংরা ৬০০-৭৫০ টাকা, পাবদা ৫৫০-৭৫০ টাকা, রুই ২৫০-৩৮০ টাকা, মলা ৪৫০-৫০০ টাকা, দেশি পুঁটি ৪০০-৪৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩০০ টাকা, পোয়া মাছ ৬০০-৭০০, বাইলা ৫৫০-৭০০ টাকা, মাঝারি তেলাপিয়া ১৬০-২৮০ টাকা, কাতল ২৬০-৪০০ টাকা, দেশি মাগুর ৬০০-৯০০ টাকা, শিং মাছ ৬০০-৮০০ টাকা ও আকারভেদে ইলিশ প্রতিজোড়া ১১০০-২১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া চাল ডালসহ অন্যান্য পণ্যের দামের তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।

এমআই/