ফুটবলের আবিষ্কারক গুয়ারানিরা!

0
118
guarani parague
ফুটবল খেলা (ফাইল ছবি)

দক্ষিণ আমেরিকার একটি ‘ইন্ডিও’ উপজাতি গুয়ারানিরা৷ তারা নাকি আধুনিক ফুটবল খেলা আবিষ্কৃত হওয়ার দু’শো বছর আগেই ঐ ধরনের একটি খেলা খেলত বলে দাবি করা হয়েছে প্যারাগুয়ের একটি সরকারি তথ্যচিত্রে।

guarani parague
ফুটবল খেলা (ফাইল ছবি)

তখন গুয়ারানিদের বাসের এলাকা ছিল আজকের বলিভিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ের অংশ জুড়ে৷ আজ গুয়ারানিদের প্রভাব ও আধিপত্য অনেকটা গুটিয়ে এসে শুধুমাত্র প্যারাগুয়ের একাংশে সীমিত হয়েছে, তবে এই দেশে স্প্যানিশের পরেই গুয়ারানি হলো দ্বিতীয় সরকারি ভাষা এবং দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন৷

সরকারি তথ্যচিত্রটির নাম: ‘গুয়ারানিরা ফুটবল আবিষ্কার করে’৷ তথ্যচিত্রের ভিত্তি হলো সপ্তদশ শতাব্দীর জেসুইট যাজকদের বিভিন্ন রচনা৷ জেসুইট যাজকরা গুয়ারানিদের খেলার যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা-তে দেখা যাচ্ছে ইন্ডিওরা একটা বাতাস-ভরা রবারের বল নিয়ে একটি খেলা খেলত।

সহজ-সরল গুয়ারানিরা আধুনিক ফেডারেশন ফুটবল উদ্ভাবন করে বসে আছে, এমন কথা ভুলেও দাবি করেননি প্যারাগুয়ে সরকার৷ কারণ ১৮৬৩ সালে ফুটবল খেলার নিয়মাবলী প্রথম তৈরি হয় ইংল্যান্ডে।

প্যারাগুয়ে সরকার বলেছেন, জেসুইটরা প্রথম এ দেশে আসেন ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দের কিছু পরে এবং সে আমলেই গুয়ারানিরা একটি বলের খেলা খেলতো, যা শুধু পা দিয়ে খেলা হতো।জেসুইটরা গুয়ারানিদের খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করার ব্যবস্থা করেন। রোববার গির্জার প্রার্থনাসভার পর গুয়ারানিদের ঐ অদ্ভুত ‘ফুটবল’ খেলা হতো৷

প্রথম জেসুইট পাদ্রিরা দক্ষিণ অ্যামেরিকায় পৌঁছে ভ্যাটিকানকে রিপোর্ট করেন, এদেশের পুরুষরা কিভাবে একটি ‘বাউন্সিং বল’ নিয়ে খেলে থাকে৷ খেলাটার নাম ‘মাঙ্গাই’৷ নামটা এসেছে মাঙ্গাইজি গাছ থেকে৷ স্থানীয় বাসিন্দারা ঐ গাছের বাদামি-হলুদ রজন নিয়ে তা থেকে তাদের বাউন্সিং বল তৈরি করত৷ গাছের ছালে লম্বা একট দাগ কাটলেই সেই ক্ষত থেকে কষ ঝরতে শুরু করে৷ ভিজে বালির একটি বল বানিয়ে তার ওপর একের পর এক স্তর রজন লেপতে হয়৷ শেষে এক টুকরো খড়ে ফুঁ দিয়ে বলে হাওয়া ঢোকানো হয়৷ বল তৈরি শেষ৷

বলটা খুব বাউন্স করত কিন্তু তা সত্ত্বেও খেলোয়াড়দের বলটা কন্ট্রোল ও ড্রিবল করতে হতো৷ খেলায় কোনো গোল ছিল না, কিন্তু যে দলটি আগে ক্লান্ত হয়ে খেলা থামাতো, তারাই হেরে গেছে, বলে ধরে নেওয়া হতো৷মজার বিষয় হলো সব ম্যাচই গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হতো!

ইউএম/