‘৭ম পঞ্চবার্ষিকীতে সবাইকে টার্গেট করতে হবে’

0
57
planning commission
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় অর্থনীতিবিদরা।

৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নে দেশের সব মানুষকে টার্গেট করে কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পক্ষে মত দিয়েছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা। সেই সঙ্গে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় পিছিয়ে থাকা বিষয়গুলোর বাস্তবায়নে সমস্যা চিহ্নিত করে নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান তারা।

planning commission
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় অর্থনীতিবিদরা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় অর্থনীতিবিদরা এ মত প্রকাশ করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ.ফ.ম. মোস্তফা কামাল।

সভায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের অর্থনীতি এগিয়েছে; তবে সুযোগ ও আকাঙ্ক্ষার তুলনায় তা কম। ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকীতে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ৮ শতাংশ থাকলেও তা ৬ শতাংশের বেশি এগোয়নি।

আন্তর্জাতিক ট্রানজিট সুবিধার বিষয়ে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির প্রসারের পরিকল্পনা নিয়ে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ. মনছুর বলেন, জিডিপিতে প্রতি বছর ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হলেও তা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও ব্যক্তি বিনিয়োগে পিছিয়ে রয়েছে।

৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যক্তি বিনিয়োগ ও বিশ্বব্যাপী পণ্য আমদানি-রপ্তানি সহজতর করতে সীমান্ত বিনিময় ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে আহ্বান জানান তিনি।

বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক রশীদা রুশদান ইসলাম বলেন, পরিকল্পা প্রণয়নে অবশ্যই দেশের সব মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যে সব খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি, সে সব খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মামুন তিতুমীর বলেন, দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে। কিন্তু সে তুলনায় দারিদ্র্য কমেনি। আনুষ্ঠানিক খাতে বিনিয়োগ কমে তা অআনুষ্ঠানিক খাতে বেড়েছে। ৭ম পঞ্চবার্ষিকীতে এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়নে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী বাস্তবায়নে মূল সমস্যা ছিলো অর্থ। যে পরিমাণ বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণ পাওয়ার কথা ছিল, তা পাওয়া যায়নি।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. গৌর গোবিন্দ বলেন, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্য ড. আব্দুল হাই বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ব্যক্তি উদ্যোক্তা বেশি না থাকায় আটকে আছে। এবারের পরিকল্পনা কর্মসংস্থান ও ব্যক্তি বিনিয়োগভিত্তিক প্রবৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের সত্যিকারের উন্নয়নে সবাই টার্গেট করে পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রত্যেক মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে হবে।

এইউ নয়ন/ এমই/