অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানি করলে নগদ সহায়তা

0
84
Tofayel_Ahmeda
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ফাইল ছবি
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ: ফাইল ছবি
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ: ফাইল ছবি

অপ্রচলিত কৃষি পণ্য রপ্তানি করলে তার বিপরীতে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বৃহস্পতিবার চতুর্থ এগ্রো বাংলাদেশ এক্সপো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা জানান।

কৃষি সচিব এস এম নাজমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। ছিলেন বীজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনিস উদ দৌলাও।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে কৃষি পণ্য নিতে চায়।

তিনি জানান, এবছর শ্রীলংকায় ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টন চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে এক লাখ টন আলু নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে রাশিয়া। আমরা দেশটিতে ২০ হাজার টন রপ্তানিও করেছিলাম। কিন্তু আলুতে ব্যাকটেরিয়া ধরা পড়ায় তারা আপাতত নিচ্ছে না। আলুর ব্যাকটেরিয়া সমস্য আগামীতে থাকবে না বলে জানিয়েছেন আমাদের বিজ্ঞানীরা। আশা করছি, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।

তিনি বলেন, সরকার কৃষি খাতের উন্নয়নে কাজ করছে। সারের সমস্য সমাধান করা হয়েছে। নতুন নতুন জাতের বিভিন্ন বীজ উৎপাদন ও রপ্তানিতে প্রণোদনা এবং ব্যাংক ঋণ সহজ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭২-৭৩ সালে মাত্র ২৫টি পণ্য রপ্তানি করে ৩১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হতো। এর এখন ৭০০ থেকে ৮০০টি পণ্য রপ্তানি করে ৩০.২ বিলিয়ন ডলার আয় হচ্ছে। আশা করছি আগামী ৫ বছরের মধ্যে এটা ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

সার উৎপাদন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে দেশে সারের সংকট ছিল। এখন উৎপাদন এবং বিতরণে কোনো সংকট নেই। সকল দিক দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সমালোচকরা বিভিন্নভাবে এই সব অগ্রগতিকে পিছিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারপরও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানিতে নতুন বিষয় নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান অনুষ্ঠানের সভাপতি কৃষি সচিব নাজমুল ইসলাম ।

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া বলেন, কৃষি জমি বাড়ছে না। সুতরাং দেশের খাদ্য চাহিদা মেটাতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

ভূগর্ভস্থ পানি কম ব্যবহার করে ভু-উপরিস্থ পানি বেশি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যারা ডিপ টিউবঅয়েলের ব্যবসা করেন তাদের পরিবেশের ক্ষতি না করে পানির সরবরাহ করতে হবে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। সার্বিক সহায়তা করছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কৃষি প্রতিষ্ঠান।

প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ছাড়া ভারত, পাকিস্তান, চীন, তাইওয়ান, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলংকার কৃষি যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার উপকরণ, বীজ ইত্যাদি নিয়ে দেশি-বিদেশি ২২৫টি স্টল রয়েছে।

এসএই/