অর্থমন্ত্রী দালাল: বারকাত

0
69
barakat
জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাত- ফাইল ছবি

অর্থমন্ত্রীকে নব্য উদারবাদীদের দালাল বলে আখ্যায়িত করেছেন জনতা ব্যাংকের বিদায়ী চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত।
বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘জনতা ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতার পাঁচ বছর ২০০৯-২০১৩’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নে উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

barakat
জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাত- ফাইল ছবি

জনতা ব্যাংকের কাগজপত্র সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে আবুল বারকাত বলেন, ২০১৩ সালে সব বাদ দিয়ে নিট মুনাফা ৯৫৫ কোটি টাকা। যা ব্যাংকিং ইতিহাসে বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি ৫৬ টি ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০০৮-১৩ সালে জনতা ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১১৬ শতাংশ এবং মোট সম্পদ বেড়েছে ১১৯ শতাংশ।
পারিবারতন্ত্রে অর্থমন্ত্রী প্রথম স্থান অধিকার করেছেন উল্লেখ করে অধ্যাপক আবুল বারকাত বলেন, যোগ্যতা না থাকা সত্বেও অর্থমন্ত্রী নিজের ভাই-ভাগ্নে স্বজনদের রাষ্ট্রীয় কাজে বসিয়েছেন। এটি সংবিধানের লংঘন।

অর্থমন্ত্রী বুদ্ধিবৃত্তিক জালিয়াতি করেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের জন্য ক্ষতিকর তদবির করেন অর্থমন্ত্রী। একটি টিভি চ্যানেলের জন্য ৪০ কোটি টাকা ননফান্ড থেকে ফান্ড হিসেবে দেওয়ার জন্য তিনি আমাকে তদবির করেন। আমি তার তদবিরের কারণে টাকা দিয়েছি। এর দায় অর্থমন্ত্রীকে নিতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মিথ্যা কথা বলতে পারদর্শী উল্লেখ করে বারাকাত বলেন, তিনি অবলীলায় মিথ্যা কথা বলতে পারেন। মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে শেখেননি তাই কথায় কথায় তিনি রাবিশ, ফটকা এইসব শব্দ ব্যবহার করেন।

অর্থমন্ত্রী বিশেষ একটি শ্রেণিকে সুবিধা দিয়ে থাকেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ক্ষমতার অপব্যহার করে নিজ এলাকার এলিট শ্রেণির মানুষদের বেশি সুবিধা দিচ্ছেন। তিনি প্রজাতন্ত্রের সেবা না করে ক্ষতি করছেন।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে মোট মুনাফার ১০ শতাংশ সিএসআর এ ব্যয় হওয়া উচিত জানিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে মোট মুনাফার ১০ শতাংশ সিএসআর আদায় করে এর ৫ শতাংশ আলাদা করে সৎ মুক্তিযোদ্ধাদের সহয়তা করলে ২ বছরে তাদের দারিদ্র দূর করা সম্ভব। কিন্তু অর্থমন্ত্রী তা করবেন না।

অর্থমন্ত্রী দেশপ্রেমিক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ এর ভাষণকে একে খন্দকার বিকৃতি করলেন আর তাতে তিনি সমর্থন করলেন। এতেই বোঝা যায় তার মধ্যে দেশপ্রেম নেই এবং তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শেও বিশ্বাসী নন।

আবুল বারকাত বলেন, জনতা ব্যাংকের কোনো অবক্ষয় ঘটেনি। আমি যা বলেছি তা তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই বলেছি। অর্থমন্ত্রী না জেনেই ওইসব কথা বলেছেন। তার জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। আমি যে তথ্য দিয়েছি তা তিনি জানেন কি না? যদি জানেন তাহলে এটা তার অজ্ঞানতা।

বারকাত আরও বলেন, হলমার্কের ৪ হাজার কোটি টাকা অর্থমন্ত্রীর কাছে কিছুই না অথচ তার তদবিরে ৭/৮ কোটি টাকা না দেওয়ায় তিনি বলেছেন, এটা জনতা ব্যাংকের রীতিমতো ডাকাতি।

এ সময় সরকারে প্রতি আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী কি বলছে আর আমি কি বলছি তার সত্যতার জন্য একটি ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করুন। তদন্তে যদি প্রমাণ হয় আমি দোষী তাহলে আমি সব অভিযোগ মাথা পেতে নেব।

এমআই/ইউএম/