‘নতুন ভ্যাট আইনে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ উপেক্ষিত’

0
89
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ (ফাইল ছবি)
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ (ফাইল ছবি)
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ (ফাইল ছবি)

মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটের নতুন আইনে ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডার্টিজ (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ। সেই সাথে নতুন মূসক আইনে ব্যবসায়ী পর্যায়ে প্রযোজ্য প্যাকেজ ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করেন তিনি।

বুধবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স্ ইন্সিটিটিউশন মিলেনায়তনে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২’ বিষয়ক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

কাজী আকরাম বলেন, বিগত দিনে ভ্যাটের বিশাল সাফল্যকে বিবেচনা না করে আইএমএফের পরামর্শে নতুন মূসক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৯৯১ সালে ভ্যাট চালু করার পর প্রতিবছরই ভ্যাট আদায়ের পরিমান বেড়েছে। কিন্তু এনিবআর ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে বিবেচনা না করে দ্রুত এ আইনটি প্রণয়ন করছে।

তিনি বলেন,২০১১-১২ অর্থ্ বছরে আমদানি, উৎপাদন ও সেবা পর্যায়ে মোট মূসক আদায় হয় ৪৯ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। যা ২০১৩-১৪ সালে বেড়ে ৫৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা হয়েছে। কিন্তু এই বিশাল অর্জনকে বিবেচনা করা হয়নি। শুধুমাত্র আইএমএফের পরামর্শ্ নেওয়া হয়েছে। যা অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের জন্য নেতিবাচক।

তিনি আরও বলেন, প্রতিপালনযোগ্য ভ্যাট আইন চাই। বাস্তবতা বিবেচনা করে শুধু ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিব না। রাজস্ব বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ভ্যাট দিতে প্রস্তুত আছি। তবে তা অবশ্যই ব্যবসাবান্ধব হতে হবে।

এনবিআরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আকরাম বলেন, এনবিআর শুধু নতুন ভ্যাট আইনের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেছে। কিন্তু নেতিবাচ দিকগুলো বলে না। নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও আমাদের দাবিগুলো আইনে প্রতিফলিত হয়নি।

প্যাকেজ ভ্যাটের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন ভ্যাট আইনে ব্যবসা পর্যায়ে প্যাকেজ ভ্যাট অর্ন্তভূক্ত না করায় ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও আশঙ্কার তৈরি হয়েছে। এ খাতে নিবন্ধিত করদাতাকে বিক্রয়ের উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। যা মূলত আবগারী শুল্কে পরিণত হয়েছে। যা কোনো ব্যবসায়ীর পক্ষেই প্রতিপালনযোগ্য নয়।

এছাড়া মূসক নীতিমালা বহির্ভূত সম্পূরক শুল্ক ও টার্ণ্ওভার করকে মূসক আইনে অর্ন্তভূক্ত করার প্রতিবাদও করেন এ ব্যবসায়ীক নেতা।

রিস্ক ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে তিনি বলেন, আর্ন্তজাতিক রীতি-নীতির সাথে সামঞ্জ্যপূর্ণ্ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অডিট প্রক্রিয়াধীন কার্যক্রম ব্যতীত তল্লাশি করা, জব্দ করা ইত্যাদি হয়রানিমূলক কার্য্ক্রম থেকে বিরত থাকার দাবি করছি।

এনবিআর চেয়ারম্যান গোলোম হোসেনের সভাপতিত্বে  সেমিনারে  অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, খাদ্যমন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম, বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান।

এইউ নয়ন