‘অশুল্ক বাধা দূরে ভারতকে উদার হতে হবে’

0
57
toFayel Ahmed
বুধবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের হলরুমে এনটিএম ইন সাউথ এশিয়া অ্যাসেসমেন্ট অ্যানালাইসিস রিপোর্ট প্রকাশের জন্য আয়োজিত সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে চোরাচালানি, চাঁদাবাজি, পণ্য আটকে থাকাসহ বিভিন্ন অশুল্ক বাধা সমস্যা তৈরি করে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বুধবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের (এমসিসিআই) হলরুমে ‘এনটিএম ইন সাউথ এশিয়া অ্যাসেসমেন্ট অ্যানালাইসিস রিপোর্ট’ প্রকাশের জন্য আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা জানান। এফবিসিসিআই, এমসিসিআই, ইপিবি ও এসএমই যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

toFayel Ahmed
বুধবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের হলরুমে এনটিএম ইন সাউথ এশিয়া অ্যাসেসমেন্ট অ্যানালাইসিস রিপোর্ট প্রকাশের জন্য আয়োজিত সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেনামের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।

সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত যখন বাংলাদেশের জন্য করিডোর উন্মুক্ত করবে তখন পণ্যের উপর ট্যারিফ উঠিয়ে দিতে হবে। তখন উভয়দেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রসার হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশি দেশ ভারতের সঙ্গেই আমাদের আমদানি-রপ্তানি সবচেয়ে বেশি। ভারতে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশে এখন অশুল্ক বাধাই সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের নানামুখি সমস্যায় পড়তে হয়। এই বাধা দূরীকরণে ভারতকে উদার হতে হবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে পণ্যের অভ্যন্তরীণ আমদানি-রপ্তানি অনেক বেশি। তবে এশিয়ার দেশগুলোতে এই ধরনের আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ খুব কম।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে জিএসপি সুবিধায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাচ্ছে পাকিস্তান। কিন্তু বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে পণ্যের রপ্তানি ক্ষেত্রে অন্য একটি সমস্যা হলো বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পণ্য গুদামজাতকরণের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশে কোটা ফ্রি, ডিউটি ফ্রি সুবিধা থাকলেও ভারত বন্ধু দেশ হওয়া স্বত্বেও দেশটিতে পণ্য প্রবেশে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির অনেক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণ কম হওয়াতে তা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে পণ্যের গুণগতমান বজায় রেখে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য উৎপাদনকারীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জাপানের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপান। বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশে সব ধরনের সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জাপান।

এমসিসিআইয়ের সভাপতি রোকেয়া আফজাল রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাণিজ্য সচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুন, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, আইসিসির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ডব্লিউটিও-এর অতিরিক্ত সচিব অমিতাব চক্রবর্তী প্রমুখ।

জেইউ/