দুদক কর্মকর্তাকে হুমকি এনামুলের পিএসের

0
128
anamul-dudok
রাজশাহী-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এনামুল হক এনা ও দুদক লোগো।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক যতন কুমার রায়কে হুমকি দিয়েছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এনামুল হকের পিএস কাঞ্চন দাস। রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হকের অবৈধ সম্পত্তি অনুসন্ধানের দায়িত্বে রয়েছেন দুদকের এই উপ-পরিচালক।

anamul-dudok
রাজশাহী-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এনামুল হক এনা ও দুদক লোগো।

বুধবার দুপুরের পর কাঞ্চন দাস মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হুমকি দেন বলে জানান যতন কুমার রায়। এ বিষয়ে রাজধানীর রমনা থানায় এককি সাধারণ ডায়েরী (নং ৭৭৭) করেছেন এ কর্মকর্তা।

যতন কুমার রায় সাংবাদিকদের জানান, বুধবার সকাল ১০.৩০টায় এনামুল হকের পিএস পরিচয়ে তার কর আইনজীবি কাঞ্চন দাস মোবাইলে (০১৬৮৭৭১১২৭৯) ফোন করেন। ফোনে তিনি এনামুল হকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পত্র জমা না দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

তিনি আরও জানান, ফোনে কাঞ্চন দাস মোবাইল ফোনে বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সব জায়গায় ম্যানেজ করা হয়েছে। এখন শুধু আপনি তাকে নির্দোষ প্রমাণ করে প্রতিবেদন জমা দিলেই হয়। আর তা না হলে হাওয়া হয়ে যাবেন।

যতন কুমার সাংবাদিকদের জানান, তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান করার সময়  তাকে এর আগেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপহরণ করার জন্য ফাঁদও তৈরি করা হয়েছিলো।

দুদক কর্মকর্তার করা ডায়েরী সূত্রে জানা যায়, অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানকালে এনামুল হকের বিরুদ্ধে ২০৭ কোটি এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৪৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ পেয়েছে দুদক। আর এ সম্পদ ফাঁস হওয়ার ভয়েই হুমকি দিয়েছেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাকে।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে এনামুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

গত ২৬ আগস্ট দুদক তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকলে অসুস্থ্যতার কারণ দেখিয়ে ১ মাসের সময় চান সরকার দলীয় এ সংসদ সদস্য। তবে দুদক তাকে সময় না দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ৮ আগস্ট দুদকে উপস্থিত হন তিনি।

দুদক সূত্র জানায়, এনা প্রোপার্টিজের কর্ণধার সংসদ সদস্য এনামুল হকের হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য রয়েছে দুদকের কাছে। নির্বাচনের হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সাথে তার প্রকৃত সম্পদের অনেক গড়মিল রয়েছে।

হলফনামা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে শুধু বেতন-ভাতা থেকে তার বছরে আয় ছিল ২০ লাখ টাকা। ৫ বছর পরে এখন কৃষি, বাড়ি ও দোকান ভাড়া, ব্যবসা ও পেশা থেকে বছরে তার আয় হয় ৫০ লাখ টাকা। তার নিজের, স্ত্রীর ও নির্ভরশীলদের মোট ১৬ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার সাধারণ শেয়ার, তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ পাঁচ বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট কোটি ৩৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকায়।  নগদ হিসেবে নিজের ১০ লাখ টাকা ও স্ত্রীর হাতে পাঁচ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। নিজ নামে ব্যাংকে আছে আট লাখ ৫৮ হাজার ৯১ টাকা ও স্ত্রীর নামে এক লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা।

প্রসঙ্গত, গত ২২ জানুয়ারি কমিশন সভায় বিগত মহাজোট সরকারের সাত মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

এনামুল হক ছাড়া অপর ছয়জন হলেন-সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার, কক্সবাজার-৪ আসনের এমপি আবদুর রহমান বদি, ঢাকা-১২ আসনের এমপি আসলামুল হক এবং সাতক্ষীরা-২ আসনের এমপি এমএ জব্বার।

গত ২১ আগস্ট আবদুল মান্নান খান, মাহবুবুর রহমান এবং আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় মামলা করে দুদক। মান্নান খান গত রোববার আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন।

এইউ নয়ন/এমই/