‘বিলুপ্তির হার ধারণার চেয়ে ১০ গুণ বেশি’

0
250
beboon
বিলুপ্তির প্রাকৃতিক হারের তুলনায় প্রাণি ও উদ্ভিদ ভষ্যিতে এক হাজার গুণ দ্রুত বিলুপ্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। ছবিতে চীনের বিলুপ্তপ্রায় সোনামুখো বানরকে দেখা যাচ্ছে।

পৃথিবীতে প্রাণি ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিলু্প্তির যে ধারণা বর্তমানে প্রচলিত, বাস্তব অবস্থা তার চেয়েও ১০ গুণ খারাপ। আর এজন্য মানুষই দায়ী বলে দাবি করেছেন একদল বিজ্ঞানী।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এ দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।

পূর্বের গবেষণা অনুযায়ী, পৃথিবীতে মানুষ আবির্ভাবের আগে প্রাণ ও উদ্ভিদ বিলুপ্তির স্বাভাবিক হার ছিল কোটিতে ১০টি। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে, এই হার প্রকৃতপক্ষে ছিল কোটিতে একটি। অর্থাৎ মানুষ আবির্ভাবের আগে বিলোপের হার বিজ্ঞানীদের ধারণার চেয়েও ১০ গুণ কম ছিলো। সেই হিসেবে বর্তমান বিলুপ্তির হার প্রচলিত ধারণার চেয়েও ১০ গুণ বেশি।

beboon
ভবিষ্যতে প্রাণি ও উদ্ভিদ  বিলুপ্তির প্রাকৃতিক হারের তুলনায় এক হাজার গুণ দ্রুত বিলুপ্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। ছবিতে চীনের বিলুপ্তপ্রায় সোনামুখো বানরকে দেখা যাচ্ছে।

এই হিসেবে পৃথিবীতে ৬ কোটি বছর আগের তুলনায় বিভিন্ন প্রাণি ও উদ্ভিদ এক হাজারেরও বেশি গুণ দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা প্রতি কোটিতে ১০ হাজার হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।

মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বের গবেষণাগুলোতে বিলুপ্তির হার নির্ধারণে কেবল জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাই সেটি সঠিক নয় বলে দাবি করছেন ব্রাউন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।

ব্রাউনের বিজ্ঞানীরা একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রজাতির বৃক্ষ এবং প্রাণি কীভাবে বংশ বিস্তার করে আসছে তা দেখতে তাদের জিনগত বৈচিত্র বিশ্লেষণ করেছেন। পাশাপাশি প্রজাতিগুলোর জীবাশ্মও পরীক্ষা করেছেন। আর এতেই বিলুপ্তি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাটি ঠিক নয় বলে দাবি করেছেন তারা।

তাদের মতে, পৃথিবীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধিই অন্য প্রজাতির প্রাণী বিলোপের অন্যতম প্রধান কারণ। তবে বিভিন্ন প্রজাতি সংরক্ষণে মানুষই ভূমিকা রাখছে বলেও গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।