সচিবসহ ৫ জনকে অব্যাহতি দুদকের

0
84
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) লোগো
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) লোগো
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) লোগো

দেড়শ’ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ থেকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব (বিপিসির সাবেক সচিব) আবু বকর সিদ্দিকসহ ৫ জনকে অব্যাহতি (এফআরটি) দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

তাদের বিরদ্ধে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আমদানি করা তেলের দাম বেশি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল।

এর আগে গত জুন মাসের শেষ দিকে দুদকের উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় তদন্ত শেষে এ মামালার চার্জশিট দাখিলের সুপারিশ করে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

মামলা থেকে অব্যহতি পাওয়া আবু বকর সিদ্দিক ছাড়া অন্যান্যরা হলেন, ওএসডিকৃত অতিরিক্ত সচিব (বিপিসির সাবেক সচিব) আনোয়ারুল করিম, বিপিসির সাবেক চেয়ারম্যান একেএম জাফরউল্লাহ, সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মুক্তাদির আলী ও বিপিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আউয়াল।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ওশান লস (সমুদ্রে পরিবহনজনিত লোকসান) কম-বেশি দেখিয়ে বিপিসির এ সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ৩ বছরে পৌনে ৫শ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে ২০১৩ সালের ১৬ অক্টোবর দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক আলী আকবর খান বাদী হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থানায় মামলা করেন।

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত অক্টোবরে তদন্ত শুরু করে দুদক উপ-পরিচালক যতন কুমার রায়। অনুসন্ধান পর্যায়ে গত ৮ মাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে ২ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। তথ্য-প্রমাণ এবং তাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই প্রণীত হয় প্রতিবেদন।

পৃথক তিন মামলায় মামলায় আনুমানিক পৌনে ৫শ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হলেও তদন্তে ১৫১ কোটি ৪১ লাখ ৮২ হাজার ৬৬০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণ পান দুদকের এ কর্মকর্তা। তিন মামলার মধ্যে যথাক্রমে ৭১ কোটি ২৩ লাথ ২৭ হাজার ৯৮৯ টাকা, ৫০ কোটি ১৮ লাখ ৮২ হাজার ৪৭৭ টাকা ও ২৯ কোটি ৯৯ লাখ ৭২ হাজার ১৯৪ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে মর্মে প্রমাণিত হয়। এরপর প্রতিবেদন জমা দিলে এই ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের সুপারিশ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আর অনুসন্ধান শেষে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তখনই অব্যাহতির সুপারিশ করা হয় ৮ জনকে। তারা হলেন বিপিসির ডিএমডি মনিলাল দাস, উপ-ব্যবস্থাপক (অর্থ) জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. নূরুল ইসলাম, জেনারেল ম্যানেজার (হিসাব) গিয়াসউদ্দিন আনসারি, ডিএমডি মহিবুর রহমান, ডেপুটি ম্যানেজার জাকির হোসেন, সাবেক পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) সৈয়দ মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সাবেক চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আশরাফউদ্দিন আহমেদ।

তবে দুদকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করে শেষ পর্যন্ত সব আসামিকেই মামলা থেকে অব্যহিত দেন।

এ প্রসঙ্গে , দুদককমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিনচুপ্পু বলেন, ‘কুয়েত থেকে পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনগুলোয় তেল আমদানি করা হয়। তেল  আমদানির ক্ষেত্রে ৪৭৬কোটি টাকা ক্ষতি সাধনের একটি অভিযোগ দুদকে আসে। পরবর্তী সময়ে দুদক চট্টগ্রাম বন্দর থানায় তিনটি মামলা দায়ের করে। এরপর তদন্ত শেষে পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় তাদেরঅব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। কমিশন অভিযুক্তদের শুনানি গ্রহণ করে ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অব্যাহতির অনুমোদন দিয়েছে।