আদালতে অসুস্থ হয়ে পড়লেন পরীমনি

রাজধানীর বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আবারও জামিন নিতে আজ (১০ অক্টোবর) আদালতে হাজির হন চিত্রনায়িকা পরীমণি। কিন্তু আদালতে আসার পর থেকেই তিনি অসুস্থ বোধ করেন। তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বলেন, ‘গরম আর আদালতের ভেতরে ধাক্কাধাক্কি কারণে পরীমণি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’

শুনানি শেষের পর দেখা যায়, আদালতে এজলাসের বেঞ্চে সঙ্গীদের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছেন পরীমণি। এ সময় আইনজীবীরা তাকে কাগজ নেড়ে বাতাস দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় ২০-৩০ মিনিটের মতো তিনি সেখানে ছিলেন। শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে তাকে হাত ধরে আদালত থেকে গাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।

আজ জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং মামলাটির তারিখ ধার্য থাকায় পরীমণি আদালতে হাজির হয়ে তার আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন করে আবারও স্থায়ীভাবে জামিনের আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদারের আদালত পরীমণি ও তার দুই সহযোগীর অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী মোস্তফা কামাল পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযুক্ত অপর দুই আসামি হলেন আশরাফুল ইসলাম দিপু ও কবির হোসেন।

নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে চলতি বছরের ১৪ জুন দুপুরে সাভার থানায় ছয় জনের নামে মামলা করেন পরীমণি। ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদকে প্রধান আসামি করা হয়। এরপর বেশকিছু সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ হলে ব্যাপক আলোচনায় আসেন পরীমণি। এরই ধারাবাহিকতায় ৪ আগস্ট রাতে বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে সহযোগীসহ পরীমণিকে আটক করে র‍্যাব। তার বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয় বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটকের পর তাদের নেওয়া হয় র‍্যাব সদর দফতরে।

র‍্যাব-১ বাদী হয়ে মাদক আইনে পরীমণির বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে তিন দফায় মোট সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় দেশীয় চলচ্চিত্রের এই নায়িকাকে। বারবার তাকে রিমান্ডে নেওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে গত ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালত ৫০ হাজার টাকার মুচলেকায় পরীমণির জামিন মঞ্জুর করেন।

অর্থসূচক/এমএস