হাসপাতাল থেকে বাচ্চা চুরির সময় তরুণী আটক

  • Arafat Robin
  • September 5, 2021
  • Comments Off on হাসপাতাল থেকে বাচ্চা চুরির সময় তরুণী আটক

লক্ষ্মীপুরে হাসপাতাল থেকে ৩ দিনের বাচ্চা চুরি করে নেওয়ার সময় রিমা আক্তার নামে এক তরুণীকে আটক করা হয়েছে। রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোভা ট্রমা সেন্টার এন্ড জেনারেল হসপিটালের সামনে থেকে হাসপাতালের লোকজন তাকে আটক করে।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মিমতানুর রহমান ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে আটক রিমাকে পুলিশ সদর থানায় নিয়ে যায়। আটক রিমা সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের পোদ্দারবাজার এলাকার ইতালি প্রবাসী সফিকুর রহমানের স্ত্রী। শিশু সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর এলাকার ব্যবসায়ী মো. সুমন ও সাবিনা আক্তার দম্পতির ছেলে সন্তান।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, তিনদিন আগে নোভা ট্রমা সেন্টার এন্ড জেনালের হসপিটালে সিজারের মাধ্যমে সাবিনা আক্তার ওই ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। সদর হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক নার্গিস পারভিন ওই প্রসূতির সিজার করেছেন। এখনো শিশুর নামও রাখা হয়নি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রিমা হাসপাতালে এসে শিশুর মা সাবিনাকে বলেন, ‘বাচ্চার অবস্থা ভালো নয়। চিকিৎসক নার্গিস পারভিন বাচ্চাটিকে দেখার জন্য বলেছে। বাচ্চাটিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে’। এ কথা বলে সাবিনার কোল থেকে বাচ্চাকে নিয়ে রিমা কেবিন থেকে বের হয়ে যায়। পরে ২-৩ মিনিট হাসপাতালে অভ্যর্থনা কক্ষে রিমা বসে ছিলেন। তার পেছন পেছন বাচ্চার নানিও আসে। হঠাৎ বাচ্চাকে নিয়ে রিমা দ্রুত পায়ে হেটে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যায়। এতে বাচ্চার নানি চিৎকার দিয়ে উঠে বলে ‘আমার নাতিকে নিয়ে মহিলা চলে যাচ্ছে’। হাসপাতাল থেকে বের হয়ে রিমা সিএনজি চালিত অটোরিকশায় উঠতে যায়। চিৎকার শুনে তাৎক্ষণিক হাসপাতালের লোকজন এসে বাচ্চাসহ রিমাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

জানতে চাইলে শিশুর বাবা মো. সুমন বলেন, শুক্রবার প্রসব ব্যাথা উঠলে আমার স্ত্রীকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে সিজারের মাধ্যমে আমার দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। আমার সন্তানকে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা শুনে গা শিওরে উঠেছে। এভাবে হাসপাতাল থেকে বাচ্চা চুরির ঘটনা ভয়াবহ। রিমার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত তাদের শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রসব ব্যাথা নিয়ে সাবিনা আক্তারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গাইনি চিকিৎসক নার্গিস পারভিন ওই প্রসুতির সিজার করেন। প্রসূতির ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। সাবিনা এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাচ্চা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার কথা শুনে তাৎক্ষণিক চোরকে আটক করা হয়।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মিমতানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ সময় হাসপাতালে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখাসহ বাচ্চার মা-বাবা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। রিমাকে আটক করে সদর থানায় পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অর্থসূচক/এএইচআর