অবরোধ-হরতালমুক্ত দিনেও হরতালের আবহ

shahbaghআজ ৩১ ডিসেম্বর। ২০১৩ সালের শেষ দিন। গত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার ডামাডোলে বেতাল সমস্ত জাতি, দেশ। সেই অস্থিরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছিল বিএনপি ‘আহুত মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ আন্দোলন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিরোধের মুখে তা সফল করতে পারেনি ১৮ দলীয় জোট। সে সময় কার্যত অবরোধ পালন করে সরকারি দল। এদিকে আগামি ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কিন্তু ১৮ দলীয় জোট এই নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে। আর এ জন্যই তারা আগামিকাল ১ জানুয়ারি থেকে অনির্দষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছে।

এই অবস্থায় সরকার দলীয় অবরোধ আর পরে আবার ১৮ দলীয় অবরোধের মাঝে আজ মঙ্গলবারের দিনটি ছিল অবরোধ হরতাল মুক্ত।

কিন্তু আজ ১৮ দলের বিক্ষোভ কর্মসূচি থাকায় রাজধানীসহ সারা দেশে হরতাল অবরোধের আবহই বিরাজ করছে।

রাজধানীতে গাড়ি-ঘোড়ার চলাচল ছিল স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক কম। তবে কর্মক্ষেত্রগামী সাধারণ মানুষ বাস,রিক্সা যে ভাবে পারছেন ছুটছেন। তবে তাদের মধ্যে রয়েছে আতঙ্কও রয়েছে।

নগরীর সব মোড়ে মোড়ে পুলিশের সতর্ক প্রহরা রয়েছে, তবে কড়াকড়ি কমে আসায় বেড়েছে যানবাহন চলাচল। সকাল থেকে দূর পাল্লার বাস চলাচলও শুরু হয়েছে।

শনি, রবি ও সোমবার সদরঘাট থেকে দক্ষিণের পথে লঞ্চ চলাচল ছিল কার্যত বন্ধ। মঙ্গলবার সকাল থেকে সচল হয়েছে নৌপথও।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার সমাবেশ করার ঘোষণা থাকায় গত কয়েক দিন সেখানে ছিল পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা। সেখানেও কড়াকড়ি অনেকটা শিথিল করা হয়েছে।

তিন দিন পর ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলতে শুরু করেছে। পুলিশ থাকলেও মঙ্গলবার সেখানে তল্লাশির কড়াকড়ি চোখে পড়েনি।

তবে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি থাকায় কার্যালয়ের কাছে পুলিশের রায়ট কার, জল কামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে আগের দিনের মতোই।

নিরাপত্তা কিছুটা শিথিল হয়েছে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনেও। গত তিন দিন সেখানে আট থেকে নয় প্লাটুন পুলিশ থাকলেও সোমবার গভীর রাত থেকে ওই সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।

নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে রাজধানী অনেকটা স্বাভাবিক চেহারায় ফিরলেও বুধবার নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই সর্বাত্মক অবরোধের ডাক দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী জোটের পক্ষে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

বিএনপি দাবি করে আসছে, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে তাদের প্রতি জনগণের সমর্থন রয়েছে। অন্যদিকে এই আন্দোলনে জনসমর্থন নেই দাবি করে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করার বিষয়ে অনড় অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।