মার্চ ফর ডেমোক্রেসির দ্বিতীয় দিনেও রাজপথ ছিল আ.লীগের দখলে

BNP+AL

BNP+AL১৮ দলীয় জোটের ডাকা মার্চ ফর ডেমোক্রেসির দ্বিতীয় দিনেও আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ছিলেন তৎপর। রাজধানীর প্রায় প্রতিটা মোড়ে মোড়ে তাদের কর্মীরা লাঠি, হকস্টিক ও পতাকালাঠি হাতে নিয়ে বিরোধীদলকে তাদের উপস্থিতি জানান দেন।

সোমবার সকাল থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠে ছিলেন। রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও আমতলী, ফার্মগেইট, খামারবাড়ি, কারওয়ান বাজার ওয়াশা ভবনের সামনে ও  তিতাশ ভবনের সামনে, শাহবাগ প্রত্যেকটা পয়েন্টে আওয়ামী লীগ, যুব লীগ, ছাত্র লীগ, মুক্তিযুদ্ধা লীগ, যুব মহিলা লীগের উপস্থিতি ছিলেন রোববারের মতোই। দিনভর মাইক বাজিয়ে আনন্দ-ফূর্তি আর চা-বিস্কুট খেয়ে তারা বিরোধী দলের নজর কাড়েন।

আর এসব এলাকায় পুলিশ-র‌্যাবের তল্লাশি ছিল গত কালকের মতোই। সব জায়গায় পথচারীদের ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করেছে পুলিশ। আর এ তল্লাশি থেকে রেহাই পায়নি নারীরাও। পুরুষের পাশাপাশি সকাল থেকেই কর্মজীবী মহিলাদেরও তল্লাশি করেছে পুলিশ।

তলাশি আর হয়রানী করলেও এসব এলাকার পরিস্থিতি ছিল মোটামুটি শান্ত। তবে এসব এলাকার ঠিক উল্টোচিত্র ছিল সুপ্রীম কোর্ট প্রধান গেইট এবং জাতীয় প্রেসক্লাব।

দুপুরের দিকে সুপ্রীম কোর্টের মূল ফটকে মহিলা যুবলীগের সাথে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

কিন্তু সকাল থেকেই জাতীয় প্রেসক্লাবের পরিস্থিতি ছিল থমথমে। সাংবাদিকদের দুইটি পক্ষের পাল্টপাল্টি কর্মসূচির কারণেই মূলত এই দুইটি স্থান ঘিরে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ছিল এক ধরনের ব্যস্ততা। প্রতিবাদ সমাবেশ ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে কি না তা নিয়েই দিনভর আলোচনা ছিল ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকদের মধ্যে। আর এ জন্য লাইভ সম্প্রচারের করতে সবাই ছিল প্রস্তুত।

রোববার বিএনপি সমর্থিত সাংবাদিকদের গণমাধ্যম খুলে দেওয়ার সমাবেশে আওয়ামী লীগের হামলা আর সোমবার আওয়ামী ও বিএনপি সমর্থিত দুইটি সাংবাদিক ফেডারেশনের সমাবেশকে কেন্দ্র করেই মূলত সাংবাদিকদের এ ব্যতস্তা লক্ষ করা গেছে।

তবে আলোচনা-সমালোচন আর দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করলেও অবশেষে দুই পক্ষের সমাবেশই হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে। ঘটেনি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা।

কিন্তু প্রেসক্লাবে কোনো ঘটনা না ঘটলেও সারাদিনের উত্তেজনার আঁচ পাওয়া গেছে একটি ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে। প্রেসক্লাবের অদূরে সচিবালয়ের উত্তর পাশে সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় পুলিশকে লক্ষ্য করে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্ততরা। এতে আহত হয় দুই পথচারী।

এদিকে আজও যাত্রী পরিবহনের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় কর্মজীবী মানুষের। ৫টাকা ভাড়ার পথে যাত্রীদের গুণতে হয়েছে ৬০-৭০ টাকা। ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো বাস।

এ ছাড়া এক অজানা আতঙ্ক ছিল পথচারীদের চোখেমুখে। কখন কী ঘটে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছিল মানুষের মুখে মুখে।

তবে জাতীয় প্রেসক্লাবকে ঘিরে সোমবারের উত্তেজনা কমলেও রয়ে গেছে মঙ্গলবারের উত্তেজনা। কারণ মঙ্গলবারও একই স্থানে দুইদলই প্রতিবাদ সমাবেশ ডেকেছে।

জেইউ/