এমন সদরঘাট দেখেনি কেউ

সদরঘাট

সদরঘাটচারদিকে শুনশান নিরবতা। বেশ কয়েকটি প্রবেশ পথ বন্ধ। দু’একটি খোলা থাকলেও নেই কোনো মানুষের আনাগোনা। ভিতরে নেই কোন লঞ্চ,স্টিমার কিংবা নৌকা। বিশাল লম্বা টার্মিনালটি পড়ে আছে নিস্তব্ধ অবস্থায়। তার আশ পাশে আছে কিছু দুগর্ন্ধ যুক্ত পানি। উপরে চোখে পড়েছে কয়েকজন ছিন্নমূল মানুষের ঘুমানোর ও কয়েকজন যাত্রীর লঞ্চের জন্য অপেক্ষার অসহায় চিত্র।

সোমবার সকালে এমনটিই দেখা গেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও সর্বদা সচল থাকা সদর ঘাট লঞ্চ টার্মিনালের অবস্থা। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্য কোনো সময় দেখেনি দেশের মানুষ।

১৮ দলের ডাকা ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ প্রতিহতে সরকারের নির্দেশে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারির তৃতীয় দিন ঘুরে এমন চিত্র দেখে অবাক হতে হয়েছে কয়েকদিন আগে সকাল বেলা ঘুরে আসা সদর ঘাটের সাধারণ দৃশ্যের সাথে মিলাতে গিয়ে। সকাল হলেই যেখানে দেশের দক্ষিণাঞ্চল (বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, চাঁদপুর, শরিয়তপুর)থেকে আসা বড় বড় লঞ্চ ও ট্রলারের সাথে হাজার হাজার মানুষের কোলাহল দেখা গেছে আজ সেখানে শুধুই নিস্তব্দ। দু’একজন মানুষ জরুরী প্রয়োজনে ঘরে ফিরার জন্য গিয়ে লঞ্চের অপেক্ষায় থাকলেও নেই কোনো বাহন। নেই বাংলাদেশ অভ্যন্তরিণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের কোনো লোকও। নেই কোনো টোকাই, কুলি, ডিঙ্গি নৌকায় করে ওপারে (কেরানীগঞ্জ)যাওয়ার মানুষ কিংবা মালামাল। আর নেই কোনো নদীতে ভাসমান মানুষ জনের চিহ্ন।

প্রবেশ পথের একটু পরে বিশ্রাম কক্ষের এক প্রান্তে গিয়ে পাওয়া যায় আব্দুর রহিম নামে এক নিরাপত্তা কর্মীকে। একা একা বসে ঝিমানো ছাড়া আর কোনো কাজ নেই তার। কথা হয় সদর ঘাঁটের অবস্থা নিয়ে। কথার চলে আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমি ১৭ বছর যাবৎ এখানে চাকরি করি। এবারই প্রথম এরকম অবস্থা দেখতে পেলাম। যত দলই রাজনৈতিক প্রোগ্রাম করে তাতে এরকম হয় না।হরতাল-অবরোধ কিংবা অবস্থান কর্মসূচী হলেও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকে। আর লঞ্চ না চললেও কেরানীগঞ্জের সাথে যোগাযোগ সব সময়ই থাকে। এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্ধ করে দেওয়ার ফলে নতুন এক সদর ঘাট দেখতে পেলাম’।

কথা হয় টার্মিনালের মধ্যে লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করা রফিকের সাথে। তিনি ঢাকার নারিন্ধা থাকেন। জানালেন, জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি যেতে হবে তাই বাধ্য হয়ে সদরঘাট আসলাম। লঞ্চ পাবো বলে মনে হয় না কিন্তু কি করবো গাড়িও চলে না আর বাসায় গিয়েও লাভ নেই। যতক্ষন না পর্যন্ত লঞ্চ চলে ততক্ষন অপেক্ষা করবো।

তার পাশে বসে থাকা হামিদ নামে অন্য এক বৃদ্ধও চাঁদপুরে যাওয়ার জন্য বসে আছেন। তিনিও লঞ্চ চলে না জেনেও সদরঘাট আসলেন যদি চলে এ আশায়। বললেন রাজনীতির উপর তার ক্ষোভের কথা ও সাংবাদিকদের আহ্বান জানালেন,দেশের রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে লেখার জন্য।