অবরোধকারীদের বাসের আগুনে শিবচরে নিহত নাহিদ ও রবিনের বাড়িতে শোকের মাতম
রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ঢাকা

অবরোধকারীদের বাসের আগুনে শিবচরে নিহত নাহিদ ও রবিনের বাড়িতে শোকের মাতম

madaripurঅবরোধকারীদের দেয়া বাসের আগুনে নিহত নাহিদ ও রবিনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। নিহত নাহিদ ও রবিনের বাড়ি মাদারীপুর শিবচরের কুতুবপুর ইউনিয়নের মোড়লকান্দি গ্রামে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগে ১৮ দলের অবরোধকারীদের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে যাত্রীবাহী বাস। ঐ বাসে ছিল নবম শ্রেণীর ছাত্র নাহিদ মোড়ল ও রবিন মাদবর। বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুর সংবাদে নাহিদের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। আর তখন রবিনের বাড়িতে দেখা যায় আতংক। সবশেষে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় শিবচরে খবর আসে রবিনও মারা গেছে। মৃত্যুর তালিকায় আরও একজনের নাম যুক্ত হওয়ায় রবিনদের বাড়িতেও শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আত্মীয় স্বজনরা।

শুক্রবার বিকেলে নাহিদের লাশ নিয়ে কুতুবপুরে পৌঁছেন তার ভাই। কুতুবপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা নামাজ শেষে সন্ধ্যায় তাকে দাফন করা হয়। শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে নাহিদের বাবা সরোয়ার মোড়ল আর্তনাদ করে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পযর্ন্ত বাবার সঙ্গে জমিতে নিড়ানির কাজ শেষে শীতের পোষাক কেনার জন্য বন্ধু রবিনের সাথে ঢাকা যায় নাহিদ। কিন্তু সে জানতো না এটাই তার জীবনের শেষ ঢাকা যাওয়া। তার ছেলে যে কোনো কাজে ছিল খুবই পারদর্শী। মাঠের কাজে তার সাথে কেউ পারতো না।

নাহিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় নাহিদের মা রুনি বেগম বারবার মুর্ছা যায়। সে আতর্নাদ করে বলতে থাকেন “ছেলেকে আমি বলি বাবা এই হরতাল ও অবরোধের মধ্যে তোর ঢাকা যাওয়ার দরকার নাই। ছেলে বলে মা আজ কোন হরতাল নাই, আমি কাল সকালেই চলে আসবো। কিন্তু কে জানতো আমার ছেলে নোংরা রাজনীতির বলি হবে ? আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে নাহিদ তৃতীয়। সে স্থানীয় কুতুবপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র। নাহিদ স্কুলে পড়ার পাশাপাশি দারিদ্রতা ঘুচাতে জমিতেও কাজ করতো। নাহিদ বিদেশ যাওয়ার জন্য দুই মাস আগে পাসপোর্ট করে। নাহিদকে বিদেশ পাঠানোর জন্য বাবা জমি বিক্রি করতে ঘুরাঘুরি করে, জমি বিক্রি করতে পারলেই নাহিদকে বিদেশ পাঠিয়ে দিত বলে প্রতিবেশিরা জানান।

নিহত নাহিদের পুরাতন বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নাহিদের দাদা হাজী আ. রউফ মোড়লকে নাহিদের জন্য কবর খুড়তে। নাহিদের বয়োঃবৃদ্ধ দাদা বলেন, “এই বয়সে নাতির কবর খুড়তে হবে তা আমি কল্পনাও করিনি। আমি আমার নাতি হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই। নিহত রবিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রবিনের স্ত্রী মারিয়ার করুন আর্তনাদ। বৃহস্পতিবার রাতে রবিনের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার সংবাদ শুনে বাবা আবদুস সালাম মাদবর (মেম্বার) ও মা আকলিমা বেগম রাতেই ঢাকা ছুটে যান ছেলেকে দেখার জন্য। রবিনরা ৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে রবিন সবার বড়। দুইবছর আগে রবিন বিয়ে করে।

অপরদিকে রবিনের স্ত্রী মারিয়া জানান, “তার স্বামী ঢাকার সাভারের একটি গার্মেস্টেসে চাকুরি করে। স্ত্রী মারিয়ার কাছে খবর আসে নাহিদ ও রবিন এক সঙ্গে বাসে অগ্নিদদ্ধ হয়। নাহিদের চেয়ে রবিন বেশি দ্বগ্ধ। মারিয়া বতর্মানে অন্তঃসত্বা। অনাগত সন্তান ও তার স্বামী রবিনের জন্য তার কান্না যেন বাঁধ মানে। কোন সন্তনা নাই তার কান্না থামাতে পারছে না। এসইউ

এই বিভাগের আরো সংবাদ