শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০
Home সারাদেশ রংপুর কুড়িগ্রামে বাড়ছে শীতের তীব্রতা, ৩ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

কুড়িগ্রামে বাড়ছে শীতের তীব্রতা, ৩ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

কুড়িগ্রামে বাড়ছে শীতের তীব্রতা, ৩ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

OLYMPUS DIGITAL CAMERAকুড়িগ্রামে তীব্র শীত, কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় মানুষের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। চার দিন থেকে কুড়িগ্রামে সূর্যের মুখ দেখা মেলে নি। রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, রোববার এ অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। গত ৩ দিনে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

তীব্র শীত ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন স্তবির হয়ে পড়েছে। গরম কাপড়ের অভাবে নিম্ন আয়ের ও শ্রমজীবি মানুষেরা পড়েছে চরম বিপাকে। গ্রাম অঞ্চল ও শহরে মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। মারাত্বক সমস্যায় পড়েছে জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদী মধ্যবর্তী ২ শতাধিক চরের ৪ লক্ষ মানুষ।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শীতের তীব্রতায় মানুষের পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছে গবাদী পশু। সামর্থবানরা গবাদী পশুর গায়ে চট দিয়ে ঢেকে দিচ্ছে। অধিকাংশ বাড়িতে গোয়াল ঘরে গবাদি পশু গাদাগাদি করে আছে। বাইরে রের করে নি। কোথাও গোয়াল ঘরে আগুন জ্বালিয়ে গবাদী পশু ও মানুষ উত্তাপ নিচ্ছে।

ব্রক্ষপুত্র নদের তীরবর্তী ঘনশ্যামপুর গ্রামের আবুল হোসেন ও আখের আলী জানান, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বিকেলের পর মানুষ বাড়ির বাইরে বের হয় না। ঘন কুয়াশায় কিছুই দেখা যায় না। রাত ভর বৃষ্টির মত কুয়াশা পড়ে।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ নজরুল ইসলাম জানায় শীত ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে রোববার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪১জন। এর মধ্যে ৬০ জন শিশু। আউটডোরে শীতজনিত রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৮’শ জন। এর অধিকাংশই শিশু ও বৃদ্ধ।

সিভিল সার্জন ডাঃ লোকমান হাকিম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কন্টোল রুম খোলা হয়েছে। চিকিৎসা বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সকল ছুটি বাতিল করে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। সেই সাথে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে গঠন করা হয়েছে ৮৫টি মেডিকেল টিম।

জেলা প্রশাসক এ বি এম আজাদ জানান, শীত মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৬৪২টি কম্বল সরকারিভাবে ৯ উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া জরুরী ভিত্তিতে আরও ১০ হাজার কম্বল চেয়ে ঢাকায় ফ্যাক্স বার্তা পাঠানো হয়েছে।

এআর