পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে রংপুর রণক্ষেত্র; ওসিসহ আহত ৫০, গ্রেপ্তার ১১

FARUK Rangpur Photo(1)(BNP Bikhove)29-12-13(2)রংপুর মহানগরীতে রোববার দুপুর পৌনে দুইটার সময় পুলিশ-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-*পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয় পায়রা চত্বর থেকে নগর ভবন পর্যন্ত। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জ, গুলি, কাঁদানে গ্যাস, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ইটপাটকেল ককটেলের আঘাতে কোতয়ালী থানার ওসি, সাংবাদিক পথচারীসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ যুবদল নেতা ভাস্কর, ছাত্রদলের মিম, পাপ্পুসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার দুপুরে দেড়টার সময় নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়স্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে বাঁশের লাঠিতে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের। মিছিলটি জাহাজ কোম্পানী, পায়রা চত্ত্বর হয়ে সুপার মার্কেটের দিকে এগিয়ে গেলে কে বা কারা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে কোতয়ালী থানার ওসি সৈয়দ সাহাবুদ্দিন খলিফাসহ বেশ কয়েকজন পথচারীরা আহত হয়। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ বিএনপির মিছিলে বাধা দিয়ে লাঠিচার্জ, রাউন্ড টিয়ারশেল, রাবারবুলেট, কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে শুরু হয় সংঘর্ষ। চলে ঘন্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এসময় বিএনপি নেতাকার্মীরা আশেপাশের দোকানসহ রিকশা, অটো রিকশা, মটর-সাইকলে, কার, মাইক্রোবাসে ভাংচুর চালায় এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে।

এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে ঢুকে পড়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাকটেল ছুড়তে থাকে। এসময় পুলিশও গুলি, কাঁদানে গ্যাস, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে থাকে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তামানে নগরীর জুম্মাপাড়া, মিঠুর গলি, সিটি বাজারসহ বিএনপি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তল্লাশী চলছে। বর্তমানে নগরীতে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ সিটি বাজার, জুম্মাপাড়া, মিঠুরগলি থেকে জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের ১১ বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। সংঘর্ষে কোতয়ালী থানার ওসি সৈয়দ সাহাবু্দ্দিন খলিফা, কনেষ্টবল জিয়াউল, মাইটিভির প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম রাজু, স্থানীয় দৈনিক পরিবেশের স্টাফ রিপোর্টার মমিনুল ইসলাম রিপনসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়।

পুলিশের এএসপি হুমায়ুন জানান, বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিষ্ফোরণ ও গাড়ি ভাংচুর করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

এদিকে পুলিশের অভিযোগ  অস্বীকার করে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সামসুজ্জামান সামু জানান, আমাদের জাতীয় পতাকাবাহী শান্তিপুর্ন মিছিলে সরকার দলীয় ক্যাডাররা ককটেল ফাটিয়ে পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছে। পুলিশের গুলিতে  বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে তিনি দাবী করেন।

সাকি