‘নেত্রী না আসলেও আমি এসেছি’

Dance

Dance‘নেত্রী আসতে পারেন নি। তাতে কি। আমি তো এসেছি। আমি তো স্লোগান দিচ্ছি। জয় হোক গণতন্ত্রের। জয় হোক ১৮ দলের’। কথাগুলো আমার না।

বলছিলাম ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ সফল করতে কুমিল্লা থেকে আসা জহিরুল ইসলামের কথা। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এমন সব স্লোগান দিয়ে নাচছিলেন তিনি।
সকাল ১১ টায় মার্চ ফর ডেমোক্রেসি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের কড়া নিরাপত্তা ও তল্লাশীর কারণে ১৮ দলীয় জোটের কোনো নেতা-কর্মী আসতে পারেননি। ফলে সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অনেকটাই অলস সময় পার করছিল। ঠিক তখনি নয়া পল্টন বিএনপির কার্যাপলয়ের সামনে হঠাৎ ‘কাজরারে কাজরারে’ এই হিন্দি গানের সঙ্গে নৃত্যু পরিবেশন করতে থাকেন আজম খান কাজল। তার দৃষ্ঠি নন্দন নৃত্য পরিবেশনায় কিছুটা সময়ের জন্য সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের মধ্যে প্রাণ চঞ্জলতা চলে আসে।

এই অবস্থায় গণমাধ্যমের কর্মীরা তার দৃষ্টি নন্দন নৃত্য ক্যামেরা বন্দি করার জন্য তার দিকে এগিয়ে যান তখন সবার মধ্য উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।
অপরদিকে, ‘দূরে কোথাও আছি বসে হাত দুটো দাও বাড়িয়ে…’  ও ‘ ইটস টাইম টু ডিসকো’ গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নৃত্যু পরিবেশন করতে থাকেন জহিরুল ইসলাম আপন । একই সাথে তিনি নাচের সঙ্গে সঙ্গে আমরা জিয়ার সৈনিক বলে স্লোগান দিতে থাকেন। ফলে কিছু সময়ের জন্য সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিনোদনে মেতে উঠে।
এসময় তিনি নিজেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের একজন নিবিদিত কর্মী বলে পরিচয় দেন।

তিনি বলেন, সরকার আমাদের নেত্রী বেগম জিয়াকে আসতে দেয়নি। কিন্ত আমি জিয়ার সৈনিক, আমাকে কেউ আটকাতে পারেনি। সকল বাঁধা পেরিয়ে বাসে, সিএনজি করে আমি নেত্রীর আহ্বানে ঢাকায় চলে এসেছি। কারণ আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।

কোথায় থেকে এসেছেন-এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কুমিল্লার বুরিচং থেকে এসেছি।

তবে এই বিনোদন দেওয়ার পরে তিনি আবেগময় কণ্ঠে বলেন, ‘ বিদায় ঢাকা’ । ‘ এই শহর আমার নেত্রীকে বন্দি করে রেখেছে। আমি আর এখানে আসবো না’
উল্লেখ্য, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ২৯ ডিসেম্বর, রোববার সারা দেশ থেকে মানুষকে রাজধানী ঢাকা অভিমুখে আসার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারর্সন খালেদা জিয়া। তিনি এ কর্মসূচিকে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ নামে অভিহিত করেন।