বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে বাংলাদেশঃ গণসমাবেশ ঠেকাতে মরিয়া ক্ষমতাসীন সরকার

marcefor demপুলিশের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে ১৮ দলীয় জোটের গণ-সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে আজ। গণ-সমাবেশকে ঠেকাতে মরিয়া ক্ষমতাসীন সরকার ইতিমধ্যে যাবতীয় প্রস্ত্ততি সেরে রেখেছে। সরকারের নির্দেশে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আধা-সামরিক বাহিনীর ত্রিস্তর নিরাপত্তায় ঢাকা প্রায় দুর্গে পরিণত হয়েছে। এর আগে রাজধানীকে দেশের অন্যান্য শহর থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে যাতে বিরোধী কর্মী-সমর্থকরা কোনও ভাবেই সমাবেশে আসতে না পারেন। ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশে গাড়ি ভাড়া করে যাদের আনার পরিকল্পনা ছিলো তাদের সকলকেই ঢাকার বাইরে আটকে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমাবেশ ঘিরে অশান্তি হতে পারে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। সূত্র – আল জাজিরা, ওয়ান নিউজ, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ওই সব সংবাদ মাধ্যমের খবরে প্রায় একই কথা বলা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন সরকার সমর্থক পরিবহণ সংগঠনগুলি ডাকা দু’দিনের ধর্মঘটে রাজধানীতে বাস চলাচল প্রায় বন্ধ। এর উপর পুলিশের তরফ থেকে গণপরিবহনের চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ফলে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন বলা হয়েছে, সরকার যে কোনও মূল্যে আমরা অশান্তি রুখবে। এর জন্য তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করবে না।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃতি করে ওই সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, ‘বুঝতে পারছি, সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। কিন্তু আগে নিরাপত্তা, তার পর বাকি সব কিছু।’

এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শাসনযন্ত্রের সাহায্যে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের অবরোধে নেমেছে। এ ভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলন ঠেকিয়ে রাখা যায় না। হাসিনা সরকার আমাদের আটকাতে পারবে না। তার কথায় পরিষ্কার, যে কোনও মূল্যে বিরোধীরা আজ ঢাকায় ঢোকার চেষ্টা করবে। ফখরুলের হুঁশিয়ারি, আমাদের কর্মীরা সবাই ঢাকার বাইরে জমায়েত হচ্ছেন। তাদের আটকে করা হচ্ছে। আমরা সমাবেশ করছি, সরকার কী ভাবে আটকায় দেখি।

এদিকে শনিবার আওয়ামি লিগের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, উন্নতির রাস্তায় সরকার এগোচ্ছে। এই সাফল্য বিরোধীদের সহ্য হচ্ছে না। তাই অশান্তি করছে। আগামি পাঁচ বছরে আমরা বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাব। দেশবাসীর কাছে এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি।