রাজশাহীতে শীতের প্রকোপ, বিক্রি বেড়েছে পোশাকের

রাজশাহী

rajshaiরাজশাহীতে ঘনকুয়াশা ও কনকনে হিমেল হাওয়ার সঙ্গে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। আর এতে করে বেড়েছে  শীতের পোশাকের দাম।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, রাজশাহীতে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। আগামি কয়েক দিনের মধ্যে শীতের প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পাবে। এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহানগরীর বড় বড় বিপনীবিতানের পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানগুলোতে শীতের পোশাক কেনার জন্য মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

মহানগরীর আরডিএ বাজার, সাহেববাজার বস্ত্রের দোকান, গণকপাড়া পুরাতন কাপড়ের দোকান, চৌধুরী মার্কেট, গণকপাড়া গার্মেন্টসের দোকানসহ অন্যান্য মার্কেটের প্রতিটি শীতের পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত।  বিক্রিও হয়েছে বেশ ভাল।

জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন ফুটপাতের পুরানো পোশাকের দোকানের মালিক  রাসেল বলেন, গত তিনদিনে তার দোকানে শীতের পোশাক বিক্রি হয়েছে সব থেকে বেশি। শীত বেশি নামায় দোকানে ক্রেতার ভিড় সব সময় লেগেই থাকে। বিক্রিও হচ্ছে বেশ ভালো।

ব্যবসায়ী মাহবুব, রাজা, আলম ও আফতাব বলেন, শীত বাড়ার সাথে সাথে দোকানে বিক্রি বেড়ে গেছে। তবে গত কয়েক দিনে যা বিক্রি হয়েছে তার অধিকাংশই ছিল ছোট ছেলে-মেয়েদের শীতের পোশাক।

চৌধুরী মার্কেটের রিয়াম দোকানের মালিক লিটন বলেন, কয়েকদিন থেকে যত শীতের পোশাক বিক্রি হয়েছে তাতে সে খুশি। গতকালই তিনি বিক্রি করেছেন প্রায় ১০ হাজার টাকার শীতের কাপড়। যা এ বছরের সর্বোচ্চ বিক্রি।

এদিকে, পোশাকের লেপ-তোষকের দোকানেও লেপ তৈরিতে ব্যস্ত অনেকেই। তুলার দোকানের মালিক আব্দুল আলীম বলেন, এখন তুলার দোকানে এতই ভিড় যে আমাদের সময় পাওয়াই দায় হয়ে পড়েছে। খালেদ ব্রাদার্সের মালিক বলেন, লেপ তৈরির চাপ বেড়ে যাওয়ায় তুলার দাম ও তার বানিও বেড়ে গেছে। যে তুলার দাম ছিল ৯৫ টাকা তার দাম বেড়ে গিয়ে এখন  দাঁড়িয়েছে ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায়। আর মজুরি ছিল ২০০ টাকা তা এখন বেড়ে ২৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, শনিবার রাজশাহী মহানগরীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার মহানগরীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে রাজশাহীতে তাপমাত্রা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন উত্তরাঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামি কয়েকদিনের মধ্যে শৈত্যপ্রবাহের প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা এমদাদুল হক।

হঠাৎ শীত জেঁকে বসায় এখন কাঁপছে এ অঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে সকাল ও সন্ধ্যায় অনেকেই খড় জ্বালিয়ে আগুনের তাপ নিচ্ছেন। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে এ অঞ্চল। এছাড়া বয়স্ক এবং শিশুদের মধ্যে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, কোল্ড ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এদিকে সকাল-সন্ধ্যা ভারী কুয়াশার কারণে ব্যাহত হচ্ছে মহাসড়কের যানচলাচল।