৫ বছরে বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে ৪ লাখ: রামরু

RMMRU-logo২০০৮ সালে স্বল্প মেয়াদি চুক্তির ভিত্তিতে ৮ লাখেরও বেশি শ্রমিক বিদেশে গেছে। কিন্তু ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩ হাজার ৭৯৩ জন। সে হিসেবে গত ৫ বছরে বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ২০৭ জন। রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্স ইউনিটের
(রামরু) গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ৭৫’র পর বাংলাদেশে চলতি বছরই সবচেয়ে কম রেমিটেন্স এসেছে ।
তিনি জানান,  গত বছরের তুলনায় এ বছরে রেমিটেন্স কমেছে ২.৭৬ শতাংশ।

এ সময় লিখিত প্রতিবেদনে রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসনের আরেকটি ভাবনার দিক হলো রাজনৈতিকভাবে অস্থির দেশসমূহ (লেবানন, লিবিয়া, মিশর, ইরাক, সুদান) এসব দেশে কর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ না নিয়েই কর্মী পাঠানো হচ্ছে।

এ ছাড়াও এসব দেশে কর্মীদের কম বেতন, অনিয়মিত বেতন, কাজের নোংরা পরিবেশ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অনিরাপদ চলাচল এসব জেনেও এজেন্সিগুলো লোক পাঠাচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেননি বলেও জানান তিনি।

তাসনিম বলেন, ২০১৩ সালের রিক্রুটমেন্ট কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে সরকার বিভিন্ন দেশের সাথে জি টু জি করে লোক পাঠানোর চেষ্টা করছে। নতুন বাজার খুলতে পারছে না, আশংকাজনক হারে অভিবাসন কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে উচ্চ অভিবাসন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে এ সময় বর্তমান অবস্থায় বিদেশে শ্রম বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় করতে হলে এখনই সরকারের ‘গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট’ (জি২জি) নীতির পুনর্মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে রামরু।

ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, সঠিক তথ্য ও ব্যবস্থপনা না থাকায় এ বছর কতজন অভিবাসী কাজ শেষ করে বা না করে ফেরত এসেছে তার কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে ২০১৩ সালের অগাস্ট পর্যন্ত ১৯ হাজার ৭৪৯ জন কর্মী আউটপাস নিয়ে দেশে ডিপোর্টেড হয়েছে। তথ্যের অভাবে বিদেশফেরত অভিবাসী কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের সরকারি বা বেসরকারি কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। এসব কর্মীদের কোনো জব পোর্টাল না থাকায় তাদের অর্জিত দক্ষতা দেশের কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সরকার এবছর জানুয়ারি মাসে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় প্লান্টেশন সেক্টরে কাজ করার জন্য দেশব্যাপী অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের আহ্বান জানায়। এ কারণে দেশের মোট ১৪ লাখ লোক রেজিস্ট্রেশন করে। এই ডাটাবেজ থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার লোককে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছে সরকার। অথচ এই সংখ্যা হওয়ার কথা ছিল ১০ লাখ। প্রতিদিন ছাত্র ভিসা, ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে বহু সংখ্যক কর্মী মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। জি টু জিকে স্বার্থক করতে হলে আজকের এই প্রতিযোগিতমূলক বাজারে যে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশকে দিতে হবে সেই সময় বাংলাদেশের হাতে এখন নেই। তাই এখনই এই নীতির পরিবর্তন করতে হবে।

চলতি বছর সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া থেকে অনেক বাংলাদেশিকে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অনেকে ফেরত আসার পথে আটক হয়ে জেল খেটেছে। এসব সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও সরকার এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলেও জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ  করে বলেন, অবৈধ পথে বিদেশে পাঠাতে তৎপর কিছু সংঘবদ্ধ চক্র গণমাধ্যমের দ্বারা চিহ্নিত হলেও সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি। এছাড়া সরকারের অভিবাসন ব্যায় হ্রাসের কার্যক্রমের বাস্তব কোন কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না। আর সরকারের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন যা চাকুরীর চাহিদাপত্র ছাড়াই হয়ে থাকে তা আজও অস্পস্ট।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অভিবাসীদের জন্য দুর্ভাগ্য যে সরকার এবং বিরোধী দল প্রতিটি আমলেই একটি করে নতুন সাংবিধানিক সংকট তৈরি করে। তাদের সৃষ্ট এসব রাজনৈতিক সংকট সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অর্জনগুলোকে পেছনে ঠেলে দেয়। অভিবাসন সেক্টরও এই অপ্রয়োজনীয় সংকটগুলো পাশ কাটাতে পারে না। অভিবাসন সেক্টরকে সমুন্নত রাখতে সরকার এবং বিরোধী দলের দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক সংকট নিরসনের দাবি জানাচ্ছি।

সংগঠনের চেয়ারম্যান ড. শাহদীন মালিকের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ড. তাসনিম সিদ্দিকী, গবেষণা ও যোগাযোগ কর্মকর্তা সেলিম রেজা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, রামরু’র কর্মসূচি সমন্বয়কারী মেরিনা সুলতানা প্রমুখ।

জেইউ/ এআর