নির্বাচনী ইশতেহার : পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতি ঘরে বিদ্যুৎ

Hasina_Ishtehar

Hasina_Ishtehar_1আগামি পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দিবে সরকার। এ সময়ের মধ্যে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন বিপুল পরিমাণে বাড়বে। শুধু ২০১৬ সালের মধ্যে উৎপাদিত  বিদ্যুতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। আর ২০২১ সালের মধ্যে তা বেড়ে হবে ২৪ হাজার মেগাওয়াট।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৪৮ পৃষ্ঠার এই ইশতেহার তুলে ধরেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আগামি পাঁচ বছরের জন্য ইশতেহার দিলেও এতে দূরবর্তী লক্ষ্য তথা রূপকল্প হিসেবে ২০৪১ সালের অর্জনের কথাও বলা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ইশতেহারে আগামি পাঁচ বছরে দেশে দারিদ্রের হার ২৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৩ শতাংশ করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ২৪ হাজার মেগাওয়াট করা, জিডিপির প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত করার কথা ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।

ইশতেহারে শেখ হাসিনা বলেন, আ. লীগ ক্ষমতায় এলে অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করবে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা হবে।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ দূর করে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সাংবিধানিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করা হবে।

ইশতেহারে তিনি বলেন, “মন্ত্রী এমপিদের কাজের জবাব দিহিতা এবং দায়বদ্ধাতা নিশ্চিত করা হবে। আবার ক্ষমতায় এলে যুদ্ধাপরাধীর  বিচার সম্পন্ন করা হবে।

এবং সেই বিচার কার্যকর করার হবে। যারা এই বিচার বানচালের জন্য সারা দেশে জ্বালাও পোড়াও এবং মানুষ হত্যা করছে , সংখ্যা লঘুদের ওপর হামরা ও লুটপাট করছে তাদের বিচার করা হবে।”

দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। সুশাসন, গণতন্ত্রায়ন ও  ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে।

নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করে একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

ইশতেহার পাঠ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদেরকে আরেকবার দেশের সেবা করার সুযোগ দিন। আগামি পাঁচ বছরের জন্য দেশের মানুষ যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে তাহলে, দেশের দরিদ্রতা দূর হবে, বেকারত্ব দূর হবে। দেশে বিনিয়োগ বাড়বে। দেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হবে। দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত হবে। মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

সব শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন সম্মিলিতভাবে শান্তি, উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাই। রক্ত, হত্যা, হানাহানির অবসান ঘটাই। বঙ্গবন্ধুর  স্বপ্নের একটি সোনার বাংলা গড়ে তুলি।