নির্বাচন বন্ধ করে আলোচনায় সমাধান খুঁজুনঃ নাগরিক সমাজ

CPD_lakeshoreচলমান সংকট উত্তরণে ৫ জানুয়ারির  নির্বাচন বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য উপায় বের করে  দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের নাগরিক সমাজ। এর জন্য পুনরায় সংসদ ডেকে একটা নতুন ফর্মুলা তৈরি করার প্রতিও তাগিদ দেন তারা। প্রয়োজনে সংকট সমাধানে নাগরিকরা আমরণ কথাও চিন্তা করছেন তারা।

শনিবার দুপুরে গুলশানে লেকশর হোটেলে সিপিডি, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সুজন এবং টিআইবির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সংকটে বাংলাদেশ-নাগরিক ভাবনা বিষয়ক আলোচনায় এ কথা বলেন দেশের প্রখ্যাত নাগরিকরা।

সিপিডির বোর্ড অব ট্রাস্ট্রি ড. রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে দেশের সকল শ্রেনীর রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, সাহিত্যিক, আইনজীবি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তৃতা করেন।

ব্যারিস্টার রফিকুল হক বলেন, আমরা এক কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছি।এ সমস্যা সমাধানের উদ্যেগ নিতে হবে রাজনীতিবিদদের।৫ জানুয়ারির নির্বাচন জাতির জন্য কোনো ভালো ফল নিয়ে আসবে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু তা মানুষের অধিকারের জন্য হয়নি। স্বাধীনতা শুধু ক্ষমতা ব্যবহার করার জন্য হয়েছে।বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভাঙ্গিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে।

সৈয়দ আবুল মকছুদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা ক্ষমতার যাওয়ার পর পরবর্তীতে ক্ষমতায় না আসার চিন্তায় থাকে। তাই তারা নিজেদের মতো করে সংবিধান কিংবা আইন প্রণয়ন করে।বাংলাদেশের বর্তমান সংকট শিশুরাও বোঝে কিন্তু রাজনীতিবিদরা বোঝে না।

ড. আনিসুল হক বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ধ্বংসের মুখে। প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ মুরগীর বাচ্চা নষ্ট হচ্ছে। প্রতিমাসে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় কম হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামি দুই এক মাসের মধ্যে দেশের কর্মচারিদের বেতন দেওয়া সম্ভব হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাবেক উপদেষ্টা তপন কুমার চৌধুরী বলেন, আমরা এখন দু’ভাগে বিভক্ত। স্বাধীনতার ৪০ বছর এ রকম হওয়ার কথা ছিলো না। এখন আমাদেরকে সকল ভেদাভেদ ভুলে দেশ গড়ার কাজ করতে হবে বলে মত দেন তিনি। তবে আমরা এখন সহিংসতা করছি, ক্ষমতার মোহে দেশের কথা ভুলে যাচ্ছি।

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, যেখানে ১৫৪ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন সেখানে নির্বাচনের কোনও প্রশ্ন ওঠে না। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত না হলে তা সংবিধান বহির্ভূত হয়। তাই ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে নতুন নির্বাচন দিতে হবে।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন দেশের সংকট আরও বেশি ঘনীভূত করবে। তাই সংবিধান ঠিক রেখে ২৪ জানুয়ারির পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে নির্বাচন দেওয়া যায়’।

ড. পিয়াস করিম বলেন, বর্তমান নির্বাচন বন্ধ করে নির্বাচন কমিশন পূর্ণগঠনসহ সকল দলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করে নির্বাচন দিতে হবে।

মতিউর রহমান খান বলেন, দুই নেত্রী বুঝিয়ে চলমান নির্বাচন বন্ধ করে একটি সুষ্ঠু সমাধানে পৌছতে হবে। আর এ বিষয়টা বর্তমানে নাগরিক সমাজ ছাড়া আর কেউ করতে পারবে না। প্রয়োজনে আমাদেরকে আমরণ অনশনসহ বড় ধরণের কর্মসূচী পালন করতে হবে।

ড.রিজওয়ানা আহমেদ বলেন, বর্তমানে আমরা মুক্তিযুদ্ধকে এবং যুদ্ধের চেতনাকে নিজের মতো করে ব্যবহার করছি। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিলো গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তবে এখন শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য একে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিএনপির সহ-সভাপতি শমসের মুবিন চৌধুরী বলেন, জাতিসংঘের সাথে আলোচনায় আমরা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধ করে সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করে নির্বাচন চেয়েছি।আওয়ামীলীগ সমাধান চায় নি বিধায় তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। সংবিধান সংশোধন করে ইচ্ছা করলেই নতুন নির্বাচন করা যায়।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, বাংলাদেশের এ সংকট ২০০৮ সালে বিএনপি-জামাতের পরাজয়ের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনী তারা মেনে নিতে পারেনি, তাই তারা এ সহিংসা চালাচ্ছে। সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ৫ তারিখের নির্বাচন বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই।

 

এইউ নয়ন