বি.বাড়িয়ায় দু’শতাধিক চাতাল বন্ধ; বাড়ছে চালের দাম

chatalটানা অবরোধ চলতে থাকায় পরিবহন সংকটের কারণে চাল সরবরাহ করতে না পারায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজেলার  পাঁচ শতাধীক চাতালকলের মধ্যে প্রায় অর্ধেক বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চাতালকল মালিক ও চাল ব্যবসায়িদের এখন প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। কাজ না থাকায় অর্ধহারে-অনাহারে দিন কাটছে ২০ হাজারেরও বেশী চাতাল শ্রমিকের।

শুক্রবার আশুগঞ্জে চাতালকল ও চালের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সর্বত্রই সুনসান নীরবতা। প্রায় দু’শ চাতাল বন্ধ থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। চালের দোকানে ক্রেতা না থাকায় গল্প করে ও আড্ডায় সময় পার করছেন ব্যবসায়িরা। অবরোধে পরিবহন সংকট দেখা দেয়ায় চালের দাম প্রতিনিয়তই বাড়ছে।

ব্যবসায়িদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অবরোধের কারণে ক্ষতির আশঙ্কায় ট্রাক চালকরা ঝুঁকি নিতে চান না। আবার কেউ পণ্য পরিবহনে রাজি হলেও ভাড়া দিতে হয় ক্ষেত্রে ভেদে দুই থেকে তিন গুন। একই সঙ্গে ট্রাকের ক্ষতি হলে তা বহনের অঙ্গীকারও করতে হয়।

চাল ব্যবসায়ি কামরুজ্জামান রিপন জানান, পরিবহন সংকটের কারণে আশুগঞ্জের চালের পাইকারি বাজারে দামের প্রভাব পড়েছে। এখন প্রতিমণ আমন প্রায় ১০০ টাকা বেশি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।  বর্তমানে মোটা আমন ১১৮০ থেকে ১২০০  টাকা ও চিকন আমন ১৩০০ টাকা  মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন আশুগঞ্জে চাতাল থেকে প্রায় ১০০০টন চাল সরবরাহ হলেও এখন তা ১০ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।

আশুগঞ্জের আজমির রাইস মিল ও হাজি রাইস মিলের মালিক মো. উজ্জল মিয়া বলেন, ‘আমাদের লোকসানের শেষ নাই। কাজ না থাকলে শ্রমিকরা চলে যাবে। অথচ আমরা একেকজন শ্রমিককে অগ্রিম দাদন দিয়ে কাজে আনি। আমরা এ অবস্থা থেকে উত্তরণ চাই’।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া চালকল মালিক সমিতির অর্থ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন খান ক্ষোভের সঙ্গে বললেন,  ‘দুই নেত্রীর যাঁতাকলে পড়ে আমরা শেষ হয়ে যাচ্ছি। অবরোধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পরিবহন। যে কারণে ট্রাক চালকরা ভয়ে যেতে চান না। ফলে আমরা দূরের কোনো জেলায় চাল সরবরাহ করতে পারছি না। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদেরকে পথে বসতে হবে।বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার প্রায় দু’শ চাতাল কল বন্ধ আছে। বন্ধ থাকা অবস্থায়ও একেকটি চাতাল কলকে প্রতিদিন ১০/১২ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হয়’।

সাকি/