পথে পথে পুলিশি তল্লাশি

পুলিশি তল্লাশী

পুলিশি তৎপরতাআঠারো দলের ঘোষিত মার্চ ফর ডেমোক্রেসি উপলক্ষে রাজধানীর প্রবেশ পয়েন্টে পুলিশি তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। ঢাকায় আসা যাত্রীদের সঙ্গে বিস্ফোরক দ্রব্য আছে কি না এমন সন্দেহে রেল স্টেশনে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দুইটি প্রবেশ পথের একটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে কর্তব্যরত পুলিশ বলেন, দেশের চলমান প্রেক্ষাপটে মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা তল্লাশি করছি। বিস্ফোরক দ্রব্য থাকতে পারে কিংবা নাশকতার সৃষ্টি করতে পারে এমন যে কাউকে তল্লাশি করা হচ্ছে।

তবে সেখানে দায়িত্বে থাকা শাহাজানপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর মোহাম্মাদ আসলাম মিয়া জানান, ধারবাহিকভাবে নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনো সন্ত্রাসী যাতে বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করতে না পারে কিংবা নাশকতা করতে না পারে এর জন্য এই ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে যে যাত্রীকে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে তাকে তল্লাশি করছি। রাজধানীবাসীর নিরাপত্তার বিষয়কে মাথায় রেখে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আঠারো দলের ঘোষিত কর্মসূচি যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে এমন হুমকির মুখে নাশকতার বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নাশকতার সন্দেহে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সহস্রাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার কথাও জানা গেছে। নাশকতার অজুহাত দেখিয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে চলছে পুলিশি অভিযান। সব মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এছাড়া রাজশাহী থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম থেকে মহানগর গোধূলী এক্সপ্রেস আজ কমলাপুর স্টেষণে আসেনি বলে স্টেশন সূত্রে জানা যায়।

সায়দাবাদ বাস স্ট্যান্ডের শ্যামলী কাউন্টারের ব্যবস্থাপক জানান, অবরোধ না থাকার পরেও যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে না। যে পরিমাণ যাত্রী ঢাকা ছাড়ছে তার কম যাত্রী নিয়ে আবার ফিরতে হচ্ছে। চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে যাত্রীদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।

একই কাউন্টারের সুপারভাইজার মামুন জানান, আমি (খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা) এই রুটে সুপারভাইজিং করি। ১৫ থেকে ১৮ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় আসতে হচ্ছে। সেটাও আবার আতংকের মধ্য দিয়ে।

এদিকে হানিফ কাউন্টারের ব্যবস্থাপক কুশল আহমেদ জানান, আতংকের কারণে কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। একান্ত প্রয়োজন না হলে কেউ ঢাকায় আসছে না। আসা-যাওয়ার পথে ৩০ জন যাত্রী যোগাঢ় করাও কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

দেশের সরকারি দলের নেতাদের সমাবেশ বানচাল করার হুমকি, আবার  বিরোধী দলের নেতাদের যেকোন মূল্যে সমাবেশ বাস্তবায়ন করার ঘোষণা এবং পুলিশের গ্রেপ্তারি অভিযানে আতংকিত দেশবাসী। আতংকিত হয়ে নিরুপায় জনগণের চলাচলও নিয়ন্ত্রিত হয়ে গেছে এখন। তার পরও আলোচনার মাধ্যমে চলমান সমস্যার সমাধান হোক এখন এমন প্রত্যাশা দেশের ভুক্তভোগী জনগণের।