নতুন রাজনৈতিক জোট এনডিএফের আত্মপ্রকাশ

ndf_groupবিকল্পধারা বাংলাদেশ  জাতীয় সমাজতান্তিক দল ও কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সমন্বয়ে এবার গঠিত হল নতুন জোট জাতীয় গনতান্ত্রিক ফ্রন্ট। ইংরেজীতে এর নাম হলো ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংঠনের নেতারা এই নতুন দল গঠনের ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে নতুন জোটের নেতারা বলেন, যে দলই ক্ষমতায় আসে সে দলই ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চায়। আর এর জন্য তারা নানা কৌশল অবলম্বন করে।

তারা বলেন, ২০০৭ সালে নির্বাচনের আগে তত্তাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কারসাজি ও  নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট রক্তক্ষয়ী সংঘাত, নৈরাজ্য ও সহিংসতার পটভূমিতেই সৃষ্টি হলো ১/১১। তারপর ২০০৮ সালের নির্বাচনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে।পরিবর্তনের প্রত্যাশায় তরুণ প্রজন্ম দেদারসে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে । কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন না ঘটে হয়েছে তার উল্টো। ক্ষমতায় এসে এ দলটি আগের চেয়েও বেশি হিংস্র হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে বিরোধী দল ক্ষমতায় আসার জন্য লাগাতার হরতাল-অবরোধের পথ বেছে নিয়ে দেশকে অশান্ত করে তুলেছে। এ অবস্থা থেকে জাতীর মুক্তির লক্ষ্যেই আজ এ জোটের আত্মপ্রকাশ বলে জানালেন আ স ম আব্দুর রব।

এসময় সবার পক্ষ থেকে নতুন জোটের ঘোষণা করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন। এ সময় তিনি নতুন জোটের নীতি এবং কমর্সুচিও ঘোষণা করেন।

সংগঠনের নেতারা বলেন, নতুন এ জোটের উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি পরিহার করা। এ ছাড়াও উল্লেখযোগ্য নীতি হলো- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট, এক নাগাড়ে দুইবারের অধিক কেউ প্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠত হতে পারবেন না, কোন ব্যক্তি একই সাথে সরকার প্রধান ও দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না, স্বাধীন, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন এবং বর্তমান সংশোধিত আরপিও পরিবর্তন করা।এ  ছাড়া স্বৈরতন্ত্র, যুদ্ধাপরাধ, বিরোধী অপরাধ, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা দূরীকরণ।
নতুন এ জোটে যেকোনো রাজনীতিবিদদের আগমনের পথ খোলা রাখা হয়েছে  বলেও জানান তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধূরী ও জেএডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীসহ জোটের নেতৃবৃন্দ।
জেইউ/এস আর