হুমকির মুখে দেশের চা শিল্প

চা

চা বাগানবাংলাদেশের চা শিল্প দিন দিনই হুমকির মুখে পড়ছে। এক সময় যে দেশ চা রপ্তানিতে সমৃদ্ধ ছিল কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই দেশ চা আমদানির তালিকায় নাম লিখিয়েছে। নব্বইয়ের দশকে বিশ্বের পঞ্চম চা রপ্তানিকারক দেশের রপ্তানি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে শুন্যের কোটায় নেমে আসবে চা রপ্তানি। এখন এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের মনে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, চলতি বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চা রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১০ লাখ মার্কিন ডলার বা ৮ কোটি টাকা (১ ডলার ৮০ টাকা ধরে)। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে চা রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার। চলতি অর্থবছরে চা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। তবে চলমান অবস্থায় চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চা রপ্তানি কমার কারণ হিসেবে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে বেশি করে দায়ী করা হচ্ছে। তাছাড়া দেশে চায়ের উৎপাদন কমে যাওয়া, দেশিও বাজারে চায়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়া, চা বাগানগুলোর বয়স বৃদ্ধি পাওয়া, চায়ের জন্য জমি ইজারা নিয়ে অন্য কাজে ব্যবহার করা, পুরোনো জাতের বীজের ব্যবহার অব্যহত থাকা, আধুনিক প্রযুক্তির  ছোঁয়া না লাগা, চা বাগানে কর্মরতদের জীবন মানের উন্নতি না হওয়া, দলীয়করণসহ প্রভৃতি কারণে দেশে চায়ের উৎপাদন বাড়ছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর চেয়ে চা উৎপাদন কম হওয়ার পেছনে সরকারিভাবে চা শিল্পের জন্য কোনো অর্থ সহায়তা  না থাকাটা বড় কারণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এডিপিতে এ খাতের উপরে কোনো অর্থ বরাদ্দও থাকছে না।

 

জানা যায়, কয়েক ধরে চা চাষের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমে গেছে। চা চাষের জন্য বরাদ্দ নেওয়া বহু জমি অনাবাদি থেকে থাকছে প্রতিবছর। তাছাড়া প্রতিবছর চায়ের জন্য সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ভূমি বৃদ্ধির কথা থাকলেও যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা না থাকার কারণে সংকট আরও প্রকট হয়েছে। কারণ দেশে চা চাহিদা বাড়ছে, তবে চাষের পরিধি বাড়ছে না।

তবে সমস্যা থাকা সত্ত্বেও এখনো যুক্তরাজ্য, জাপান কুয়েত, কাতার, পাকিস্তানসহ মধ্য প্রাচ্যের কিছু দেশে বাংলাদেশি চায়ের চাহিদা থাকায় রপ্তানি হচ্ছে।

এখনো জাপান, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশে চা রপ্তানি হচ্ছে। জানা যায়, দেশে এখন ১৬৩টি চা বাগান রয়েছে। যার অধিকাংশ এখনও মৌলভীবাজার জেলাতে।

বোর্ড কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, দেশের  মৌলভীবাজার জেলাতে ৯০টি, সিলেটে ১৯টি,  চট্টগ্রামে ২২টি, হবিগঞ্জে ২৩টি চা বাগান রয়েছে। এছাড়া চা শিল্পের সম্ভাবনাময় জেলা পঞ্চগড়ে ৭টি,  রাঙামাটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১টি  করে চা-বাগান রয়েছে।

এসব বাগানে উৎপাদন হওয়া চা রপ্তানি করে বিশ্ব বাজারে এখনও টিকে আছে চা শিল্প।তবে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে চা শিল্প আবার তার হারানো অবস্থানে ফিরে আসতে পারতো। এমনটাই ভাবছেন চা শিল্প সংশ্লিষ্টরা।
এসইউএম/এআর