‘যানজট নেই, নেই ক্রেতার ভিড়ও’
মঙ্গলবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ঈদ ফ্যাশান

‘যানজট নেই, নেই ক্রেতার ভিড়ও’

ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। তবেরাজধানীর শনির আখড়ার তাঁত বস্ত্র ও শিল্প মেলার স্টলগুলোতে নেই দর্শনার্থীর ভীড়; গতি আসেনি বেচা-বিক্রিতে। ঈদ বাজারের ভরা মৌসুমে ক্রেতার অপেক্ষায়অনেকটা অলস বসে থাকতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। কারও কারও দোকান খরচও উঠছে না।যেখানে বেশ কয়েক বছর ধরে এই মেলায় এমন সময় থাকতো প্রচুর ক্রেতার ভীড়।

Mela 2

তাঁতবস্ত্র ও শিল্পমেলায় কমে গেছে জনসমাগম। ক্রেতাশূন্য একটি স্টল। ছবি: মহুবার রহমান

শনির আখড়ার দনিয়া কলেজ মাঠে বসা এ মেলার বিক্রেতারাও জানেন না ক্রেতা না আসার সঠিক কারণ কি। তবে তারা জানিয়েছেন, মূলত এই মেলা জমে উঠতো এই রোডের যানজটকে কেন্দ্র করে। যানজটের কারণে এখানকার মানুষ দূরের মার্কেটে কেনাকাটা করতে অস্বস্তি বোধ করতেন।

এখন ….. ফ্লাইওভার হওয়ায় ক্রেতারা রাজধানীরঅন্যান্য মার্কেটে কেনাকাটায় আগ্রহী হয়েছেন। এরপ্রভাব পড়েছে এবারের মেলায়। তাছাড়া নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা আর্থিক সংকটে থাকায় মেলায় ক্রেতা কম বলেও মনে করছেন তারা।

বুধবার মেলায় কথা হয় শাড়ির দোকান জুই ফ্যাশনের মালিক এসএম জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। তিনি অর্থসূচককে জানান, এবার বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। গত বছরের এই সময়ে মেলায় ক্রেতার ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে এবার তা অর্ধেকেরও কম।

জাহাঙ্গীর জানান, তার দোকানে প্রতি পিস জামদানি দেড় হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায়, মসলিন আড়াই হাজার টাকায়, ভারতীয় জামদানি সাড়ে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায়, টাঙ্গাইলের তাঁত সাড়ে ৫০০ থেকে সাড়ে ১২০০ টাকায়, বালুচুরি ১২০০ থেকে ১৮৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।তিনি প্রিন্টের শাড়ি বিক্রি করছেন ৪৬০ টাকায়।

ইসলামপুরের খন্দকার টেক্সটাইলের মালিক জুন্নন খন্দকার জানান, মেলায় ৬ লাখ টাকা ভাড়া দিতে হবে। অথচ এতো দিনেও এর অর্ধেক মাল বিক্রি করতে পারেনি। কর্মচারিদের ইফতারিসহ দোকান খরচ তোলাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।

তার স্টলে ভারত, পাকিস্তান ও দেশি থ্রি-পিস তুলেছেন। যেগুলো ৪৫০ থেকে ৩,৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

গাউসিয়া মার্কেটের সম্রাট সুজের বিক্রেতা আফজাল হোসেন বলেন, এক মাসের জন্য ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে স্টল নিয়েছি। অনেক আশা করে মাল তুলেছিলাম। তবে বিক্রি নেই বললেই চলে। এক বেলায় ১,২০০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এখন চাঁদ রাত পর্যন্ত আশায় থাকব।

আফজালের স্টলে ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে মেয়েদের জুতা পাওয়া যাচ্ছে।

সদরঘাটের সানজিদা গার্মেন্টসের মালিক জয়নাল আবেদিন নান্টু বলেন, গত বছর এই মেলায় আমার স্টল ছিল না। তবে অনেক বেশি বিক্রি হয় শুনে এবার এসেছিলাম আশা নিয়ে। এখনও স্টল ভাড়া তুলতে পারিনি। এমন হলে আগামীতে আর হয়তো আসা হবে না এই মেলায়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ